সোহানুর রহমান সোহান
জলাবদ্ধতার পানিতে তলিয়ে গেছে দেখার হাওরের শিয়ালমারা অংশের ধান। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শুকনো অংশের ধানে দেখা দিয়েছে ব্লাস্ট রোগ। তোর থেকে ধান হবার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে ধান। উভয় সংকটে পড়ে শিয়ালমারার কৃষক এখন দিশেহারা। বাধ্য হয়েই বুক পানিতে নেমে যতটুকু সম্ভব ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
জানা যায়, কয়েকদিন রাতে টানা বৃষ্টি ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার ড্রেনের পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় শিয়ালমারা হাওরে। বৃষ্টি ও ড্রেনের পানি হাওর থেকে বাহির হবার জন্য শান্তিগঞ্জের উথারিয়া পাথারিয়া বাঁধে দুটি রিং বসানো ছিল। পানি বের হবার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় শিয়ালমারা হাওরে জলাবদ্ধতা কঠিন রুপ নেয়। এ নিয়ে ৬ এপ্রিল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে “ডুবছে শিয়ালমারা হাওরের কাঁচা ধান” শিরোনামে সংবাদও প্রকাশিত হয়। পরে বাঁধটির রিং খুলে দিয়ে পানি বের হওয়ার রাস্তা করে দেয়া হয়। এরপরও রক্ষা হয় নি পানিতে ডুবা ধান। প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার দাবী করেছেন কৃষকরা।
শিয়ালমারা হাওরের বানু বিশ্বাস বলেন, ৬ কেয়ার জমি করেছিলাম, সব জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সারাবছর কিনে খেতে হবে। তাই যতটুকু পারছি ,পানিতে নেমে নৌকা দিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছি।
ডোপি কোনা গ্রামের কৃষক গোপাল বিশ্বাস বলেন, শুকনো অংশের ধান ব্লাস্টে জ্বলছে। বাকী ধান ডুবছে বৃষ্টির জলে। আমরা সবদিকে মরা। ১২ কেয়ার জমির সবই জলে গেছে। বছর কি খেয়ে যাবে জানি না। সব উপরওয়ালা ভরসা এখন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল আলম বললেন, যে সমস্যার কারণে পানি বের হচ্ছিলো না, সেটা সমাধান করা হয়েছে। বাঁধে রিংয়ের মুখ খুলে দেয়া হয়েছে। হাওর থেকে পানি নেমেও গেছে। এখন যেটুক অংশ ডুবে আছে তা খালের পাশের জমি। এগুলো এমন সময় ডুবেই থাকে, অস্বাভাবিক কিছু নয়।
- ২৮ করলে পুড়ে, ২৯ করলে ডুবে’/ নতুন জাতের ধান চাষাবাদ জরুরি
- প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পার/ উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত বংশীকুন্ডা কলেজ


