শীতকালীন সবজি/ বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
এবার অনেক বেশি পরিমাণ জমিতে সবজি আবাদ করেছেন চাষিরা। শীতের আগাম সবজি বাজারে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। জামালগঞ্জে সবজির মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষক-কৃষাণীরা শীতকালীন সবজির চারা তৈরি এবং বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর রবি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ বছর ১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে সবব্জি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বন্যার জন্য সবব্জির বীজতলা তৈরি করতে বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
ফেনারবাঁক ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নতুন নতুন সবব্জির বীজতলা তৈরিতে কৃষক-কৃষাণীরা কাজ করছেন। কেউ বীজতলা প্রস্তুতির পর জমির মাঝ বরাবর নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ছোট ছোট আইল তৈরি করে বীজ রোপণ করছেন। আবার অন্য কেউ পলিথিনের ছোট ছোট ব্যাগে মাটি ও ছাই ভর্তি করে বীজতলা প্রস্তুতে কাজ করছেন। বাঁশের তৈরি বেথি দিয়ে রিংয়ের মতো বানিয়ে উপরে পলিথিন দিয়ে পুরো বীজতলা মুড়িয়ে দিচ্ছেন।
সদর ইউনিয়নের কালাগুজা, কাশিপুর, সংবাদপুর, লালপুর ও ফেনারবাঁক ইউনিয়নের শরীফপুর, ভূতিয়ারপুর, সুজাতপুর রামপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে উষ্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে এমনটা করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে ঢেকে দেওয়া পলিথিনগুলো সামান্য উঠিয়ে একপাশে ফাঁকা করে দেওয়া হয়, যেন বাইরের বাতাস বীজতলা প্রবেশ করতে পারে। বীজ রোপণ করার পর ৮ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয়। বীজ গজিয়ে উঠার পর তারা সেই পলিথিন সরিয়ে ফেলেন। এরপর জমিতে লাগানোর আগ পর্যন্ত চলে নিয়মিত পরিচর্যা। এসব বীজতলায় টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, ঝিঙা, করলা, শিম, শসাসহ বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবব্জির চারা করে থাকেন বলেন জানিয়েছেন কৃষকেরা।
কৃষক আবুল কাসেম বলেন, বিগত বন্যায় সবজির বীজতলা তৈরি করতে বিলম্ব হয়েছে। সবজি চাষ করেই সংসার চালাতে হবে, এজন্য বিলম্ব হলেও জমি প্রস্তুত করা ছাড়া উপায় নেই আমাদের।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, গত বছর রবি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সব্জি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ বছর ১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গেল বছরের তুলনায় চলতি বছরে বীজতলা তৈরি করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগস্টের মধ্যবর্তী সময় থেকে ফাঁকা জায়গায় চারা লাগানো শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও উপজেলার সবজির চাষীগণ আগাম সবজি চাষ করে লাভবান হতে পারবেন।