শীতে কাঁপছে হাওর পাড়ের মানুষ

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
স্বামী সন্তান কেউ নেই আয়েশা আক্তারের। পঞ্চাশোর্ধ বয়সী আয়েশা আক্তার স্থানীয় বাজারের বিভিন্ন খাবার হোটেলে পানি সরবরাহের কাজ করেন। তীব্র শীতে ঘরে বসে থাকার উপায় নেই তার। দুবেলা দু’মুঠো আহার যোগাতে ঘর থেকে বেরুতেই হবে তাকে। আয়েশা আক্তারের বাড়ি ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বাঘাউচা গ্রামে। জয়শ্রী বাজার তার কর্মস্থল। হাওরপাড়ে আয়েশা আক্তারের মতো হাজার হাজার এমন খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছে। পৌষের প্রথমদিকে হাওরাঞ্চলে শীতের হালকা পরশ পাওয়া গেলেও মাসের শেষ দিকে সারাদেশের ন্যায় হাওরাঞ্চলেও শীত যেন মরণ কামড় দিয়ে বসেছে। এমন শীত প্রতিরোধ করার  জন্য প্রস্তুত ছিল না হাওরবাসী। তীব্র শীতে কাঁপছে হাওরপাড়ের মানুষ। বিপাকে পড়েছে আয়েশা আক্তারের মতো খেটে খাওয়া অসহায় দরিদ্র জনগণ। শীতের কারণে ঘর থেকে বের হয়ে কাজে যেতে না পারলে খাবার জুটছে না কারও কারও। বিঘœ ঘটছে কৃষি কাজে।
এমনিতেই হাওরাঞ্চলের মানুষকে ফলসহানির ধকল সইতে হয়েছে। ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে কৃষক, কর্মসংস্থান হারিয়েছে সাধারণ মানুষ। হাওরপাড়ের অসহায় মানুষকে যেখানে দুবেলা দুমুঠো ভাত যোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সেখানে শীত থেকে রক্ষা পেতে শীতবস্ত্র কেনার বিষয়টি অনেকটা বিলাসিতার মতো। আগে পেট বাঁচাতে হবে এমনটিই আয়েশাদের জন্য করুণ সত্য। শীতার্ত ও অসহায় মানুষের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ধর্মপাশা উপজেলার জন্য প্রথম পর্যায়ে ৪ হাজারের ওপর কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব কম্বল ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু এ উপজেলার দশটি ইউনিয়নের সকল অসহায় শীতার্ত মানুষের চাহিদার তুলনায় এমন বরাদ্দ অপ্রতুল।
মধ্যনগর বাজারের বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, ‘হাওরবাসী করুণ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফসলডুবির পর অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাওরপাড়ের অসহায় মানুষজনকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। শীতের হাত থেকে হাওরপাড়ের মানুষকে বাঁচাতে হলে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’
জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে সাড়ে তিন শ’ কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। যা ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু এখানে আরও হাজারখানেক শীতবস্ত্রের চাহিদা রয়েছে। শুধু সরকারি সহায়তায় নয় ব্যক্তিগতভাবেও অসহায় শীতার্ত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। হাওরাঞ্চলের কথা বিবেচনা করে অত্র উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী নতুন বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’ সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২০০ কম্বল। কিন্তু শীতার্ত অসহায় মানুষের তুলনায় এমন বরাদ্দ ‘কিছুই না’ বলে মন্তব্য করেন ওই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার বলেন, ‘চাহিদা থাকলে বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলবো।’