স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন,‘জাতির পিতার জন্মদিন বলতেই বাংলাদেশের জন্মদিন, বাঙালি জাতির জন্মদিন, জাতীয় সঙ্গীতের জন্মদিন। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ার অজপাড়া গাঁয়ে জন্ম নেওয়া এই মানুষটিকে উদ্দেশ্য করে কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বলেছিলেন, আমি হিমালয় দেখিনি, শেখ মুজিবকে দেখেছি। বঙ্গবন্ধুর কথা মনে পড়লে ৩০ লাখ শহীদের কথা মনে পড়ে, তাঁর কথা মনে পড়লে জাতীয় চার নেতার কথা মনে পড়ে। জাতির এই মহান নেতার জন্মদিনে আমাদের শপথ হোক, বাংলাদেশের জন্য আমরা সাধ্যমত কিছু একটা করবো। তাহলেই তাঁর আত্মা শান্তি পাবে।’
শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি’র হাসনরাজা মিলনায়তনে জাতির পিতার জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ সাদিক এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা
মুকুট, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. আপ্তাব উদ্দিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নুরুল মোমেন, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আলী আমজাদ প্রমুখ। এছাড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ নানা সংগঠনের উদ্যোগে জাতির পিতার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা, কেক কাটাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন,‘৭১’এ বড় কোন অস্ত্র ছিল না। কোন কামান, এসএমজি, এলএমজি’র মতো বড় অস্ত্র বাঙালির ছিল না। সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল ৭ মার্চের জাতির পিতার বক্তৃতা। সেটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কিংবা অন্য কোন বেতার কেন্দ্র থেকে যখন বাজানো হতো, তখন মনে হতো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অস্ত্রটি গর্জে ওঠেছে। ৭ মার্চের ভাষণের পর উজ্জীবিত বাঙালিকে দাবিয়ে রাখা যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘‘জাতির পিতা যখন জেলে থাকতেন, ঘরে টাকা পয়সা তেমন থাকতো না। খাওয়া-দাওয়া কী হতো তাও শুনেছি জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ সন্তানের মুখ থেকে, বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব বলতেন, আজ আমরা গরিব খিচুরি খাবো, এই গরীব খিচুরি খেয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, এই গরিব খিচুরি খেয়েই আমাদের পতাকা এসেছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।’
তিনি বলেন,‘জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ সন্তান তাজুদের নামাজ থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করেন। তিনি দেশপ্রেমিক সাহসী নেতা, এজন্যই বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। বিশ্বব্যাংক মনে করেছিল পদ্মা সেতু হবে না। পদ্মা সেতু হচ্ছে। পদ্মা সেতু দিয়ে যেদিন বিশ্ব ব্যাংকের গাড়ি যাবে আমরা তাদের করতালি দিয়ে অভিনন্দিত করবো।’
সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে জাতির পিতার জন্মদিন উপলক্ষে র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমী’র হাসন রাজা মিলনায়তনে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। আলোচনা সভা শেষে জাতীয় শিশু দিবসের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।


