দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভলিবল খেলাকে কেন্দ্র করে দিনভর দু-পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সব ধরনের মিটিং, মিছিল, সভা ও খেলাধুলা নিষিদ্ধ ছিল। বিদ্যালয়ের মাঠে শুক্রবার আইন সৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দিনভর পুলিশ মাঠে অবস্থান করেন।
শুক্রবার দিন বিদ্যালয় মাঠে শ্রীপুর বাজার ভলিবল ক্লাবের উদ্যোগে ভলিবল টুর্নামেন্ট খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। উক্ত ভলিবল টুর্নামেন্টে স্থান শ্রীপুর বাজারস্থ হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ পোস্টারে উল্লেখ করায়, বাজারের নামকে কেন্দ্র করে পান্ডারগাঁও এলাকার লোকজন বিদ্যালয় মাঠে ভলিবল খেলায় বাধার সৃষ্টি করে। এ নিয়ে পান্ডারগাঁও এলাকার লোকজন তথা বাজারের ব্যাবসায়ীদের
একাংশ ভলিবল খেলাটি প্রতিহত করার জোড় চেষ্টা করে। এ দিকে শ্রীপুর বাজারের নাম ব্যাবহারকারীদের মাঝে খেলা বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পুলিশ প্রশাসন মাঠে খেলাধুলা ও মিছিল মিটিং সহ সব ধরণের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ঐ মাঠে খেলা পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি এনামুল হক জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ দিনভর এলাকায় ছিল। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শেখ হাফিজুর রহমান জানান, পরবর্তীতে ওই খেলাটি উভয়পক্ষকে নিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে উপভোগ করবেন।
একই দিনে শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকায় বিদ্যালয় মাঠে ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে দোয়ারাবাজার থানার আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোয়ারাবাজার থানার ওসি এনামুল হক।
উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ফতেফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আমজদ হোসেন, ইউপি সদস্য আরপান আলী, ওয়াব আলী, আব্দুল মালিক, আব্দুল গণি, শফিুকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, রাজমোহন সূত্রধর, বাবরুছ মিয়া, সোনামালা, রেজিয়া বেগম, তারণ্য বালা সূত্রধর প্রমুখ।
সভায় এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের সমাপণী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এক পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সাহেবেরগাঁও মোকামের খাদেম আবুল শাহ কালেমায়ে শাহাদাত জানেন না বলে চেয়ারম্যান উক্তি করলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
সভা শেষে চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ মঙ্গলপুর বাজারের পৌঁছলে আবুল শাহ ও তার ভক্ত আশিকানেরা চেয়ারম্যানের উপর চড়াও হন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ নিয়ে চেয়ারম্যান ফারুক আহমদের সাথে ফোনে কথা বললে তিনি জানান, আবুল শাহ এর মোকামে ওরশ করতে না দেয়ায় সে আমার উপর চড়াও হয়েছে। এ নিয়ে আমি মোটেও বিচলিত নই। বরং মোকামে অবৈধ কার্যকলাপ আর করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।


