জগন্নাথপুর অফিস
বাংলাদেশ কারো দয়ার দান নয়। লড়াই করে, লাখো মানুষের জীবন দিয়ে স্বাধীন হয়েছে। এই দেশ কখনো কারো কাছে মাথা নত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। নতুন প্রজন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ‘শ্রীরামসী আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস’ পালন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তরা এসব কথা বলেছেন। ১৯৭১ সালের ৩১ আগস্ট পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসী গ্রামে গণহত্যা চালায়। এতে ১২৬ জন গ্রামবাসী প্রাণ হারান।
এই শহীদদের স্মরণে বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীরামসী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদদের স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘শ্রীরামসী শহীদ স্মৃতি সংসদ’। ১৯৮৭ সাল থেকে এই দিনটি এলাকায় নিয়মিত পালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি’র) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম ও জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নূর মোহাম্মদ জুয়েলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেহবুব হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজর আলী, আয়োজক সংগঠনের মোশাহিদ আলী, বাবুল মিয়া প্রমুখ।
এম এ মান্নান বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি যা বলেন তা করেন। দেশ ও মানুষের কল্যাণে দিনরাত কাজ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারকে উন্নয়নের স্বার্থে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে।
মোহাম্মদ সাদিক বলেন, কোনো চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের অগ্রগতিকে থামাতে পারবে না। জাতির পিতাকে হত্যা করে ষড়ন্ত্রকারীরা মনে করেছিল, বাংলাদেশ ধ্বংস করে দেবে। কিন্তু পারেনি। এখন জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের নতুন প্রজন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেবে।
এর আগে শ্রীরামসী স্কুল প্রাঙ্গণের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও পিএসসি’র চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক।


