ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরে আরো ১২৫ একর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই দুইদিনে ওই হাওরের ৫০০ একর জমির মধ্যে ২৫০ একর জমির ধান গাছ পানিতে তলিয়ে যায়। শয়তানখালি ফসল রক্ষা বাঁধে কোনো কাজ না করায় সুরমা নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হাওরে পানি ঢুকে এ ফসল ডুবির ঘটনা ঘটে।
জানা যায়,
পানি উন্নয়ন বোর্ড শয়তানখালি ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতের জন্য ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাঁধের দুই পাশে বাঁশের খুঁটি এবং মাঝে মাঝে বাঁশের চাটাই দেওয়া আছে। কিন্তু বাঁধের কোথাও কোনো মাটি নেই। উপজেলার এই হাওরের অধিকাংশ জমি পার্শ্ববর্তী মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ও মান্দারবাড়ি গ্রামের কৃষকদের। ওই হাওরে প্রায় ৫০০ একর জমিতে এ বছর বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত হাওরের প্রায় ২৫০ একর জমির ধান গাছ পানি নিচে তলিয়ে যায়।
মান্দারবাড়ি গ্রামের কৃষক মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, এই হাওরে আমার ৩০ কেয়ার জমি রয়েছে। এ মধ্যে ১৭ কেয়ার জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী নিজেই ওই বাঁধের প্রকল্প চেয়ারম্যান। তিনি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ইচ্ছাকৃত ভাবেই বাঁধের কাজ সঠিক সময়ে শুরু করেননি। তাদের কারণেই আমাদের জমির ফসল তলিয়ে গেছে। যারা এ কাজের সাথে জড়িত তাদের শাস্তি চাই এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পিআইসির চেয়ারম্যন আমানুর রাজা চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও কল রিসিভ না করায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সুজা উদ দৌলা বলেন, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত চন্দ্র সোনার থাল হাওরে পানি ঢুকে প্রায় ২৫০ একর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আর যদি বৃষ্টি না হয় তবে হাওরের বাকি ফসল রক্ষা পাবে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন কবীর বলেন, আমি বর্তমানে বাঁধে আছি। বাঁধে মাটি কাটার জন্য দুটি মেশিন আনা হয়েছে। বাঁধটি মেরামত করে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে হাওরের পানি নিষ্কাশন করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাসের মোবাইলে একাধিবার কল করেও কথা বলা যায়নি।


