ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলা ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হলেও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীকে বাল্য বিয়ে করেছে রিপন দেবনাথ নামের এক যুবক (২২)। রিপন উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের গলহা গ্রামের জগদীশ দেবনাথের ছেলে। গত শনিবার সন্ধ্যায় তাদেরকে উদ্ধার করে মধ্যনগর থানা পুলিশ। এ বিয়ের বৈধতা নেই এবং ছাত্রী প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে না দেওয়ার শর্ত দিয়ে রিপনকে তার পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ছাত্রীকে ওই সময় তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানালেও ছাত্রীর বাবা দাবি করেছেন তাঁর মেয়েকে তিনি গ্রহণ না করে থানায় ত্যাগ করেছিলেন। এখন তাঁর মেয়ে কোথায় আছে তিনি তা জানেন না। এদিকে রবিবার সকালে ছাত্রীকে রিপনের বাড়িতে দেখতে পায় স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিপনের সাথে ওই ছাত্রীর প্রণয় চলছিল। তাই তারা গত শুক্রবার পালিয়ে যায়। ছাত্রীর বাবা বিষয়টি পুলিশকে মৌখিকভাবে জানালে ছাত্রীকে উদ্ধারে তৎপর হয় মধ্যনগর থানা পুলিশ। গত শনিবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনার কলমলাকান্দা উপজেলার বড়কাপন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাদিস মিয়া রিপন ও ওই ছাত্রীকে আটক করে মধ্যনগর থানায় হস্তান্তর করে। থানায় নিয়ে আসার পর তাদের মন্দিরে বিয়ে হয়েছে বলে জানায় রিপন। এ সময় ছাত্রীর হাতে শাঁখা ও কপালে সিঁদুর দেখতে পায় পুলিশ।
রিপনের বড় ভাই টুটন দেবনাথ বলেন, ‘তারা (রিপন ও ছাত্রী) মন্দিরে বিয়ে করেছে। আমার বাবা-মা নিজের ছেলের বউকে দেখতে চাওয়ায় আমি তাকে (ছাত্রী) বাড়ি নিয়ে এসেছিলাম। মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না পর্যন্ত তাদের আলাদা রাখা হবে।’
ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘মেয়ে আমার সাথে আসতে না চাইলে এবং আমি মেয়েকে নিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ কাগজে আমার স্বাক্ষর রাখে। পরে আমি চলে আসি। এখন আমার মেয়ে কোথায় আছে জানি না।’
মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘মেয়েটি শাঁখা সিঁদুর পরিহিত ছিল। নোটারী পাবলিকের কাগজ দেখিয়ে তাদের বিয়ে হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।’
মধ্যনগর থানার ওসি নির্মল দেব বলেন, ‘এ বিয়ের বৈধতা নেই। ওই মেয়ে ও ছেলেকে স্ব স্ব পরিবারে কাছে গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘বাল্যবিয়ে বন্ধে উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। যদি বাল্যবিয়ের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


