ষোলঘর থেকে অস্ত্রের মুখে গরু ছিনতাইয়ের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
শহরের উকিল পাড়া ও ষোলঘর কাজীর পয়েন্টের মাঝামাঝি স্থানে সুরমা ক্লিনিকের পূর্ব পাশের একটি মাংসের দোকান থেকে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ২টি গরু ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় দুইটায় সময় আবু মিয়ার দোকানে এই ঘটনা ঘটে।
আবু মিয়া সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর বানীপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি গরু ছিনতাইকারীদের নাম ঠিকানা ও পরিচয় জানতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি সদর থানা পুলিশকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পরপরই ও শুক্রবার দুপুরে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তবে সুনামগঞ্জ   সদর থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন,‘এটা ছিনতাইয়ের কোন ঘটনা নয়। টাকা লেনদেন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। টাকা পাওনা ছিল তাই গরু নিয়ে গেছিল। উভয় পক্ষ বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তি করার জন্য রাজী হয়েছেন। গরু ফেরত দিয়ে দিবে, এখানে অন্য কোন ঘটনা ঘটে নি।’
আবু মিয়া দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে জানান, বৃহস্পতিবার মঙ্গলকাটা বাজার থেকে তিনি ৬০ হাজার টাকা দিয়ে দু’টি ডেকি গরু কিনে আনেন। শুক্রবার ভোর রাতে ওই গরু দু’টি জবাই করে মাংস বিক্রি করার উদ্দ্যেশ্য ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ২ টায় সময় ৬ জন মানুষ ধারালো রাম দা নিয়ে এসে দরজা ভেঙ্গে তার দোকানে প্রবেশ করে। ঘরের ভেতরে থাকা তার ছেলে রনি মিয়াকে ভয় দেখিয়ে গরু দুটি ছিনতাই করে। পরে নৌকা দিয়ে সুরমা নদীপথে চলে যায় তারা।
আবু মিয়া জানান, তার দোকান ঘরের দরজা ভাঙ্গার শব্দ শুনে পাশের মাংস ব্যবসায়ী বড়পাড়ার  সুরুজ মিয়া এগিয়ে এসে দেখতে পান গরু ছিনতাই চক্রের সাথে তার ভাই জবর আলীসহ আরও ৬ জন রয়েছেন। সবাইকে চিনতে পেরে গরু নিতে বাধা দেন তিনি। কিন্তু ছিনতাইকারীরা সশস্ত্র হওয়ায় কর্ণপাত করেনি। সুরুজ মিয়া, তার কর্মচারী রহমান ও আবু মিয়ার ছেলে রনি মিয়া নদীর পাড় পর্যন্ত চেষ্টা করেন গরু দুটি আটকানোর কিন্তু তারা ব্যর্থ হন। গরু দু’টি ছিনতাইয়ের সাথে জবর আলী, সৈয়দপুর গ্রামের হাকিম মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, রেহমান মিয়াসহ ৬ জন ছিল বলে জানান আবু মিয়া।
মাংসের দোকানের পাশ্ববর্তী বাসার মালিক ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর সৈয়দ ইয়াছিনুর রশিদ বলেন,‘গরুর মালিক আবু মিয়া পাড়ার সবাইকে ছিনতাইয়ের বিষয়টি জানিয়েছেন।  ছিনতাইকারীদের নাকি তারা চিনতে পেরেছেন। এদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা না নিলে শহরে এদের উপদ্রব দিনে দিনে আরো বাড়বে।’
কাউন্সিলর সৈয়দ ইয়াছিনুর রশিদ আরো বলেন,‘সুরুজ মিয়া বিষয়টি আপোসে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছে। তবে তার ভাই ছিনতাইকারী জবর আলী মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকি দিয়ে বলে এনিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পাড়ার প্রতিটি বাসায় ডাকাতি করাবে সে। কেউ ডাকাতি আটকাতে পারবে না। ’