সংঘর্ষের আশঙ্কা/ শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে বিভক্ত এলাকাবাসী

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দাশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন ও সহকারী শিক্ষক জহিরুল ইসলামের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে করে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাবাসীর একটি পক্ষ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এবং অপর পক্ষ জহিরুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে অন্যত্র বদলীর দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর উভয় পক্ষই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৃথক পৃথকভাবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
রুহুল আমিন ২০০৪ সালের ৬ ডিসেম্বর, তাঁর স্ত্রী হেলেনা পারভীন পরের বছর ১০ এপ্রিল ও হেলেনা পারভীনের বড় বোন ১৯৯৫ সালের ১১ মার্চ এবং সহকারী শিক্ষক জহিরুল ইসলাম ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। গত রোববার বিকেলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে দক্ষিণ নোয়াগাঁও গ্রামের শাহ জাহানসহ ৪২ জন স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এতে বলা হয়, রুহুল আমিন নিজের স্ত্রী ও স্ত্রীর বড় বোনকে নিয়ে বিদ্যালয়ে পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছেন। তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক কথা বললে তাঁকে অন্যত্র বদলীর হুমকি দেওয়া হয়। গত ১৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষকের সাথে জহিরুল ইসলামকে জড়িয়ে মানহানীকর অভিযোগ এনে তাদের (নারী শিক্ষক ও জহিরুল) অন্যত্র বদলীর জন্য জরুরি সভা করে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সভাপতির স্বাক্ষরে একটি রেজুলেশন করা হয়। পরে এ সংক্রান্ত অভিযোগ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়। এদিকে গত বুধবার বিকেলে এসএমসির সভাপতির স্বামী যতীন্দ্র চন্দ্র সরকারসহ ২২৪ জন স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়, জহিরুল ইসলাম বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে রুহুল আমিনের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ায়। যা স্থানীয় শিক্ষক নেতাদের মাধ্যমে শেষও হয়। কিন্তু এখন জহিরুল তার অনৈতিক সম্পর্ক আড়াল করতে রুহুল আমিন ও এসএমসির সভাপতিসহ সকলকে হেয় করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তাকে অন্য বিদ্যালয়ে সাময়িক বদলী করা হয়।
সহকারী শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে পরিবারতন্ত্র কায়েম করে বারবারই এসএমসির পকেট কমিটি তৈরি করেন। যাতে বিদ্যালয় উন্নয়নের অর্থ সহজে আত্মসাত করতে পারেন। জোৎন্সা রাণী সরকার এসএমসরি সভাপতি হলেও তাঁর স্বামী যতীন্দ্র চন্দ্র সরকার সকল দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক দুইবারের সভাপতি (যতীন্দ্র) তাঁর এক ছেলে এ বিদ্যালয়ে বদলী করে আনার জন্য নেতৃত্ব দিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর এনে আমাকে স্থায়ীভাবে বদলীর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ‘অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠায় ওই নারী শিক্ষকসহ জহিরুল ইসলামকে অন্যত্র বদলীর রেজুলেশন করা হয়েছিল। এখন এ বিষয়টি আড়াল করার জন্য তিনি (জহিরুল) স্থানীয় লোকজনের কিছু স্বাক্ষর জাল করে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করাচ্ছেন। যা সত্য নয়।’
মুঠোফোন রিসিভ না করায় এসএমসির সভাপতি জ্যোৎসা রাণী সরকারের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে তাঁর স্বামী যতীন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, ‘এলাকাবাসীর পক্ষে স্বাক্ষর করেছি। জহিরুলের এমন বক্তব্যের (ছেলেকে বদলী) জন্য জহিরুলের বিরুদ্ধে দরখাস্তগুলো হচ্ছে।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন বলেন, ‘এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
আর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘দ্রুত এ ব্যাপারে তদন্ত করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’