সংবাদপত্র ব্যবসায়ীর ছেলেকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
পৌর শহরের তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা সংবাদপত্র ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফের ছেলেকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।  সদর থানায় অন্যদের সঙ্গে তার ছেলে রাব্বীকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে গত ১ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করেন লম্বাহাটি এলাকার বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম ওরফে রেজাউল করিম।
মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেছেন,        
তার মেয়ে শাহিনা আক্তারকে একই এলাকার কিসমত আলীর ছেলে এরশাদ আলীর কাছে বিয়ে দেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। বিয়ের কিছুদিন পর এরশাদ আলী ব্যবসার জন্য শাহিনাকে তার বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে বলেন। এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু আরও টাকা এনে না দেওয়ায় শাহিনাকে এরশাদ আলী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা নির্যাতন করেন। গত ২৮ আগস্ট বাড়িতে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কাপড় কেনা নিয়ে শাহিনার সাথে তার শাশুড়ি ও দেবরের স্ত্রীর কথা কাটাকাটি হয়। এরপর এ নিয়ে ৩০ আগস্ট দুপুরে এরশাদ আলী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মারপিটে শাহিনা গুরুতর আহত হন। তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দুইদিন পর ১ সেপ্টেম্বর সদর থানায় শাহিনার বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে শাহিনার স্বামী এরশাদ আলী, তার ভাই কুটন মিয়া, কুটন মিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম, আরেক ভাই আজাদ মিয়া, মা হুসনে আরা বেগম, বাবা কিসমত আলী, চাচাতো ভাই সংবাদপত্র ব্যবসায়ী আবদুল লতিফের ছেলে রাব্বী ও আরেক চাচাতো বোন ফুলজান বেগমকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঐ দিনই  রাব্বী ও ফুলজান বেগমকে গ্রেপ্তার করে। অন্য আসামিরা পলাতক আছেন। আসামিদের মধ্যে ফুলজান বেগম ও রাব্বী ছাড়া অন্যরা একই পরিবারে বসবাস করেন।
আব্দুল লতিফ জানান, তারা শুনেছেন শাহিনা আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পরদিন রেজাউল ইসলাম শুধু এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এর দুইদিন পর তিনি থানায় আবার নতুন করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় তার নিদোর্ষ ছেলে ও ভাতিজিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আমার পরিবার নিয়ে আলাদা থাকি। আমার সঙ্গে মা, বড় ভাই জমসেদ আলী ও তার মেয়ে ফুলজান বেগমও থাকেন। এই ঘটনার সঙ্গে আমরা কোনোভাবেই জড়িত নয়। আমার ছেলে ও ভাতিজিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জাড়ানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত বিষয় প্রকাশ পাবে। শাহিনাকে যদি কেউ মেরে থাকে তাহলে আমিও তার বিচার চাই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (্এসআই) পবিত্র কুমার সিনহা বলেছেন, মামলাটি তদন্তাধীন আছে। দুইজন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিরা পলাতক আছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।