জেলার ট্রাফিক পুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুলিশ কর্তৃপক্ষ গাড়িচালকদের জন্য এক দিনের একটি প্রশিক্ষণ আয়োজন করেছে, এরকম একটি ছোট্ট সংবাদ গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। খবরটি ছোট হলেও এর প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য অনেক বেশি বলে আমরা মনে করি। গাড়িচালকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। যাত্রীরা যখন গাড়িতে চড়েন তখন সংশ্লিষ্ট চালকের উপর ওই যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার এক গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। গাড়িচালক যদি অমনোযোগিতা, অদক্ষতা বা অবহেলা দেখান তাহলে মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে ছোট বড় দুর্ঘটনা। প্রাণ যেতে পারে কারও, পঙ্গুত্ব বরণের মাধ্যমে দুর্বিসহ জীবন টানতে হতে পারে অনেকের। গাড়িতে চড়ে যাত্রীরা নির্ভার থাকতে চান। কিন্তু বাস্তবে এখন গন্তব্যে না পৌঁছা পর্যন্ত প্রতিটি যাত্রী থাকেন আতঙ্কে। সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ মাত্রা সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত। এই সড়ক কত মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, কত মানুষকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু করে রেখেছে, কত পরিবারের শান্তি সুখ কেড়ে নিয়েছে; তা নিয়ে গাড়িচালক বা মালিকরা চিন্তিত থাকেন না। এই নির্বিকার মনোভাবের কারণেই তৈরি হয় গাড়িচালকদের বিপজ্জনক মানসিকতা যা ভয়াবহ পরিণতির ঝুঁকিকে যাত্রীদের নিত্যসহচরে পরিণত করেছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী চালক-হেল্পারদের দক্ষতা বাড়ানো ও সংবেদনশীল মানসিকতা তৈরিতে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলোÑ আমাদের দেশে এই চালক প্রশিক্ষণকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় না। সরকারি প্রতিষ্ঠান যথাÑ বিআরটিএ, ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিংবা গাড়ির মালিক-চালকদের সংগঠনগুলোও এ বিষয়ে নিরবতা অবলম্বনকেই কর্তব্য জ্ঞান করেন বলে আমরা দেখতে পাই। এরকম বাস্তবতায় জেলা ট্রাফিকের এই প্রশিক্ষণের বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছি এবং এ ধরনের প্রশিক্ষণ (বরাদ্দ খরচ করার জন্য নামমাত্র নয়, ফলপ্রসূ হওয়া দরকার) নিয়মিত আয়োজনের জন্য তাদের প্রতি অনুরোধ রাখছি।
যেকোনো পেশার মানুষেরই নিয়মিত শেখা ও জানার মধ্যে থাকতে হয়। নিজেকে আরও যোগ্য করে গড়ে তোলার কথা ভাবতে হয়। নতুবা কোনো পেশায়ই উৎকর্ষতা অর্জন সম্ভব হয় না। এখন সড়কে অনিয়মের রাজত্ব চলছে। চালকের লাইসেন্স থাকে না, গাড়ির ফিটনেস থাকে না। সড়কে চলার নিয়ম মানেন না কেউ। এক অসহনীয় অরাজকতা চলছে সড়কে। এর পরিনাম ফল আমরা চোখের সামনেই দেখি। আইন মেনে যানবাহন চালাতে বাধ্য করতেও নেই শক্ত কর্তৃপক্ষীয় পদক্ষেপ। কখনও কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে শুরু হয় হইচই। সংঘশক্তির প্রতাপ খাটিয়ে নিজেদের অপকর্ম-অপরাধকে আড়াল করতে সমর্থ এই গোষ্ঠী। সড়ক সংক্রান্ত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ব্যবসায়িক বোধ ছাড়া আর কোনো মানবিক বোধের বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখি না। অথচ সকলেই মানুষ এবং নিজেদের মানবিক সত্ত্বা নিয়ে খুব গর্বিত। মূলত আইন মানার অভ্যাসগত সংস্কৃতি তৈরি করতে না পারলে কোনো জায়গায়ই প্রত্যাশামত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয় না। আইন মানার অভ্যাসের সাথে মানসিকতার সম্পর্ক সরাসরি। মানবিক ও অন্যের জীবনের প্রতি দরদী মানসিকতা তৈরির জন্য নিরন্তর চেষ্টা জারি রাখতে হয়। প্রশিক্ষণ এর এক অন্যতম উপকরণ।
সকলেই মনে করেন সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা না করতে পারলে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু কিংবা পঙ্গুত্ব বরণের সংখ্যা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। সড়কের গাড়ি চালকদের এখন দানব নামে আখ্যায়িত করা হয়। এই দুর্নাম ঘুচাতে এই খাতের সকল অংশীজনের সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। যেমন আইন মানতে বাধ্য করতে হবে তেমন সংশ্লিষ্টদের মানবিক উৎকর্ষতার বিকাশ সাধন করতে হবে এবং অবশ্যই পেশাগত দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগী হতে হবে। গুরুমুখী গাড়ি চালনার সনাতনী পদ্ধতিকে আধুনিক জ্ঞানের সংস্পর্শে এনে দক্ষতায় ও মানসিকতায় উৎকর্ষ স্তরে নিয়ে যেতে হবে। এই জায়গায় প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজনকে আমরা সাধুবাদ জানাব।

