স্টাফ রিপোর্টার
১৯৭১ সালে তৈরি সুনামগঞ্জ শহীদ মিনারটি মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার। সেই থেকে প্রতিবছরই এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় দিবসসমূহে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানো হয়। কিন্তু শহীদ মিনারের অস্তিত্ব অস্বীকার করে ২০১৪ সালে স্বত্ব মামলা দায়ের করা হয়। এরই প্রতিবাদে এবার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রদান করবেন না মুক্তিযোদ্ধারা। শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমা-ার হাজী নুরুল মোমেন।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, শহীদ মিনারের পাশে পূর্ব পাকিস্তান আমলে মুনসেফ সাহেবের বাসভবন ছিল। শহীদ মিনারের জমির দখল টিকিয়ে রাখার জন্য জেলা জজ আদালতের নাজির বাদী হয়ে এখানে শহীদ মিনারের অস্তিত্ব অস্বীকার করে স্বত্ব মামলা (নম্বর ১৪৪/২০১৪) দায়ের করেছেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, স্বাধীন দেশের প্রথম শহীদ মিনার, অর্থাৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয় নি। এই সম্পত্তির মূল মালিকানা গণপূর্ত অধিদপ্তরের।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ মার্চ মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে শহীদ মিনার এলাকায় থাকা সকল বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণসহ ৬ দফা দাবি জানান। এগুলো হচ্ছে, শহীদ মিনারের চারপাশে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, গত বছরের ২৬ মার্চের পূর্বে সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের দোকানকোঠাসহ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, একই সময়ের মধ্যে জেলা জজের নাজির বাদী হয়ে দায়েরকৃত স্বত্ব মামলা (নম্বর ১৪৪/২০১৪) বাতিল, গেল ২ বছরে অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেলা জজ আদালত সুনামগঞ্জে নিয়োগকৃতদের নিয়োগ বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, পুরাতন আদালত এলাকা থেকে অবৈধভাবে স্থাপিত গরুর খামার, দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, গোদাম, গ্যারেজ উচ্ছেদ, কাঠের পাঠাতনের উপর নির্মিত পরিত্যক্ত পুরাতন জেলা জজ আদালত ভবনকে সুনামগঞ্জের ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়েছিল।


