বিশেষ প্রতিনিধি
মাঠ জরিপসহ নানা হিসাব-নিকাশ কষে দলের সংস্কারপন্থি নেতা নজির হোসেন ও জহির উদ্দিন স্বপনসহ সংস্কারপন্থি কিছু নেতাদের ব্যাপারে ‘নমনীয়’ হয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। তাদের দলে ‘ফিরিয়ে আনার অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলের দু’জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার দায়িত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে সুনামগঞ্জের সংস্কারপন্থি নেতা নজির হোসেনসহ ৫ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে দলের চেয়ারপারসনের মনোভাব জানিয়েছেন তারা। তাদের স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় তৎপর হওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পদপদবি ও মনোনয়ন দেওয়ার আগ পর্যন্ত শুধু আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না এসব নেতারা।
রোববার জাতীয় একটি দৈনিকসহ কয়েকটি ওয়েভ পোর্টালে উল্লেখ করা হয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের গোপন এই সিদ্ধান্তে নাখোশ দলের ‘কট্টরপন্থি’ অংশের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। তারা বলছেন, চেয়ারপারসন এখনও দলের আসল ও নকল লোক চিনতে পারছেন না। তবে দলের উদারপন্থি নেতারা বলছেন, বিএনপি নেত্রী দেশের সংকটময় অবস্থায় দল-মত নির্বিশেষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হলে আগে দলের ভেতর ঐক্য প্রয়োজন। তাই খালেদা জিয়া দলের ভেতর বিভেদের রেখা মুছে ফেলতে চান। সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত ওই সব নেতাদের আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীও করতে চান তিনি।
সুনামগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ওয়ান ইলেভেন’এর সময় সংস্কারপন্থি হিসাবে পরিচিত নজির
হোসেনও এমন যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন। নজির হোসেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘১০-১২ দিন আগে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে।
নজির হোসেন বলেন,‘জহির উদ্দিন স্বপনসহ অনেকের সঙ্গেই আমার কথা হয়েছে। আমরা বিএনপিতে সক্রিয় হতে চাই। বিএনপি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত হউক এটি চাই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসাবেই বিএনপি’র অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক চাই আমরা। বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে আদর্শ বিশ্বাসীদের একটি বড় প্লাটফরম চাই’।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, ‘বিভক্তি দলকে দুর্বল করে। বিএনপিতে কোনো সংস্কারপন্থি নেই। সবাই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। সংস্কারপন্থি কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কী না জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মির্জা ফখরুল।
দলীয় সূত্র জানায়, সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বিএনপিকে শক্তিশালী এবং জোটের বাইরের অন্যান্যা দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার আগে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে চায় হাইকমান্ড। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে মাঠ জরিপে যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাদের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরি করছে দলটি। যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সংস্কারপন্থি বেশ কয়েকজন নেতা এগিয়ে রয়েছেন। ওই সব আসনে বিকল্প শক্তিশালী প্রার্থী নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নেতা সংস্কারপন্থি যেসব নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তারা হলেন- সুনামগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন, নরসিংদীর সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, বরিশালের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জহিরউদ্দিন স্বপন, যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি এবং বগুড়ার সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা।
এ ছাড়া সংস্কারপন্থি নেতা নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, ময়মনসিংহের সাবেক সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান দুলু, বগুড়ার সাবেক সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ, চাঁদপুরের সাবেক সংসদ সদস্য এস এ সুলতান টিটু, মৌলভীবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, গাইবান্ধার শামীম লিঙ্কন প্রমুখের ব্যাপারেও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, এর আগেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরামর্শে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও দলের সংস্কারপন্থি সাবেক সংসদ সদস্য ও নেতাদের সঙ্গে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে একটি বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকে সরকারের কোনো লোভনীয় প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ‘একতরফা’ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের দলে ফিরিয়ে নেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার পরামর্শে সংস্কারপন্থি কোনো নেতাই ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।
অবশ্য খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকলেও বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে সংস্কারপন্থি নেতাদের কোনো পদপদবি না দেওয়ায় হতাশ তারা। শুধু সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলামকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়েছে। তাকে ঢাকার উত্তরার আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।


