সকলকেই নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলতে হবে

শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন ব্যাপকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সংবাদ পাওয়া গেছে। এসংক্রান্ত্র সচিত্র সংবাদ ছাপা হয়েছে মঙ্গলবারের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে। প্রার্থীদের বিশাল বিশাল শোডাউন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করার ঘটনা ঘটেছে ওই উপজেলায়। কর্মী-সমর্থকদের বড় মিছিল নিয়ে আসার কারণে সড়কে সড়কে তৈরি হয় যানজটের। বিভিন্ন গন্তব্যমুখী যানবাহন আটকা পড়ে রাস্তায়। কে কার চাইতে বড় মিছিল নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তা দেখানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখা গেছে ওইদিন। পথচারী ও সাধারণ মানুষ বিরক্ত হন এতে। মিছিলে কর্ণবিদারী ভুভুজেলা বাজানোয় শব্দ দূষণের সৃষ্টি হয়। প্রার্থীরা প্রকাশ্যে এরকম আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও দৃশ্যত প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বাস্তবতা দেখা যায়নি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় শোডাউন, সভা-সমাবেশ ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা রয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় পাঁচজনের অধিক কর্মী-সমর্থক সাথে রাখার ব্যাপারেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। অথচ প্রার্থীরা এই আচরণবিধির প্রতি প্রকাশ্যেই বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চলেছেন। প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আচরণবিধি না মানার এই ব্যাধি সামনের দিনগুলোতে যে আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে তা বলাই বাহুল্য।
নির্বাচনি মাঠকে সকল প্রার্থীর জন্য সমতল করার জন্যই আচরণবিধিতে নানা বিধি-নিষেধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিলো। জনসেবা করার মহৎ ইচ্ছা নিয়ে যারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদের জন্য নির্বাচনি ব্যয়কে সহনীয় মাত্রায় রাখতে এই আচরণবিধি। নির্বাচনি তৎপরতার কারণে জনজীবনে যাতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয় সেজন্য এই আচরণবিধি। সর্বোপরি নির্বাচনে উত্তেজনার পরিবর্তে যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে সেজন্যই এই আচরণবিধি। কিন্ত্র নির্বাচনের শুরুতেই এবার যেভাবে প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করার যে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন তা শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে প্রার্থী ও সরকারি প্রশাসনের ভূমিকা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। একজনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে তার কোনো ধরনের সাজা না পাওয়ার দৃষ্টান্ত অন্যকেও আচরণবিধি না মানতে উৎসাহিত করে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখতে শুরু থেকেই উদ্যোগী ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। নতুবা অর্থ ও প্রভাবে শক্তিশালী প্রার্থীর কারণে পুরো নির্বাচনি মাঠটি অসমতল হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। আমরা কিছুতেই বুঝতে পারি না যে, জনগণের সেবা করার কথা বলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসে কেন দুই হাতে টাকা খরচের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হয়। যেকোনোভাবে নির্বাচনে জিতে আসার কলা-কৌশল প্রয়োগ ঘটাতে হয়? এই ধরনের প্রবণতা কখনও জনসেবার আকাক্সক্ষাপ্রসূত নয়। মূলত জনপ্রতিনিধিত্বের জায়গাটি জনসেবার পরিবর্তে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অনাকাক্সিক্ষত জায়গায় চলে গেছে বলেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করা থেকে সবধরনের অপকৌশল প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে নেয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিত্বের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের এই আত্মঘাতী অবস্থার পরিবর্তন হওয়াটাই সকলের মানুষের প্রত্যাশা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন আচরণবিধি লঙ্ঘনের যে ব্যাপক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সামনের দিনগুলোতে এ বিষয়ে আরও কঠোর হবেন। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সকল প্রার্থীই যাতে আচরণবিধি মেনে চলেন সেই পরিবেশের নিশ্চয়তা বিধান করাই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ও প্রভাবমুক্তভাবে স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিতে পারেন, একইসাথে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার কারণে যাতে জনজীবনে কোনো ধরনের বাধা তৈরি না হয়, সর্বোপরি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পূর্ব ও নির্বাচন পরবর্তী পরিবেশ নিশ্চিত করতে আচরণবিধি মেনে চলা অপরিহার্য।