সতীশীয়ানরা এগিয়ে যাচ্ছে শত বাঁধা মাড়িয়ে

হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র হাছন নগর এলাকায় অবস্থিত সরকারি এস.সি. বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি (নব লিপিকা বার্ষিকী ২০১৭ এর তথ্য অনুসারে) কমপক্ষে ১৯২১ সাল থেকে LP (Lower Primary) হিসেবে  (তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত), ১৯৩০ সালে Town GirlsÕ Middle English School হিসেবে, ১৯৪০ সাল থেকে Satish Chandra Girls High School নামে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে চালু ছিল। ১৯৬৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি হয়। পরবর্তীতে সরকারি বিভিন্ন ডকুমেন্টে প্রতিষ্ঠানটি সংক্ষেপে Govt. S.C. GirlsÕ High School নামে পরিচিত হয়ে আসছে। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা কখনো সতীশীয়ান, কখনো চন্দ্রালোকের বালিকা, আবার কখনো এস.সি.-র বালিকা বলে নিজেদেরকে পরিচয় দিতে গৌরব বোধ করে।  
অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টি অনেক বছর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষায় ফলাফল এবং খেলাধূলা, আবৃত্তি, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, সাধারণ জ্ঞান, গান, নৃত্য ইত্যাদি নানামুখী কো-কারিক্যুলার এক্টিভিটিজে জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থান দখল করে আছে। উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে বহুবার বহু বিষয়ে গৌরবজনক স্থান অর্জন করে আসছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ভূমিকা প্রশংসাযোগ্য। এ জন্যে সবাইকে জানাই অফুরান ধন্যবাদ।   
বিদ্যালয়ের সমস্যাবলি ও সমাধানের উদ্যোগসমূহ—
বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলোকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায়। ১। অবকাঠামোগত সমস্যা ও ২। জনবল সমস্যা।
এক শিফটের স্কুল হিসেবে বিদ্যালয়টির অবকাঠামো নির্মিত। বিগত ২০১০ সাল থেকে ডাবল শিফট চালু হওয়ায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরী হয়ে পড়েছে। বিগত ১৩ এপ্রিল ২০১৭ অপরাহ্নে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার যোগাযোগ করায় এবং সরকারের অনুকূল দৃষ্টিভঙ্গি থাকায় বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে পৌর মেয়র জনাব আয়ূব বখত জগলুল কর্তৃক দলিলকৃত ও প্রাক্তন জেলা প্রশাসক জনাব শেখ রফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় মাটি ভরাটকৃত খালি জায়গায় ১৫০ ফুট বাই ৬৮ ফুট একটি ১০ তলা একাডেমিক বিল্ডিং এবং বিদ্যালয়ের পশ্চিম দিকে ১০০ ফুট বাই ৪০ ফুট একটি ৪ তলা হোস্টেল বিল্ডিং নির্মাণের জন্য সাইড সিলেকশন করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অচিরেই এর অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে সিলেট বিভাগীয় শিক্ষা প্রকৌশলী জনাব মোঃ নজরুল হাকিম, সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা সহকারী প্রকৌশলী জনাব মোঃ শামসুল আরেফীন খান এবং জেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনাব মোঃ জসীম উদ্দিন এর সহযোগিতামূলক মনোভাব        প্রশংসার দাবি রাখে।
ডাবল শিফটের স্কুল হিসেবে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক পদ সংখ্যা রয়েছে ৫২টি। তন্মধ্যে বর্তমানে কার্যত কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা ২২জন। বিদেশে অবস্থান, ডেপুটেশন এবং দীর্ঘ মেয়াদি ছুটি ভোগরতদের ধরে হিসেব করলে স্কুলে শূন্য শিক্ষক পদ সংখ্যা ৩০টি। যার ফলে শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দু’টি সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ থাকলেও উভয় পদই শূন্য। তাই সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দিবা ও প্রভাতি শাখায় যথাক্রমে মি. অসীম চন্দ্র বর্মণ ও মি. মোঃ মফিজুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আন্তরিকভাবে।
সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগে বিদ্যালয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চায়। কিন্তু বিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই, পদও নেই। তথাপি Inhouse ট্রেনিং এর মাধ্যমে সকল শিক্ষককে দিয়েই মাল্টি-মিডিয়া ক্লাস নিয়মিত নেয়ার উপর এখানে গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে প্রায় সাত হাজারের মতো বই আছে। সেখানে মেয়েরা নিয়মিত বই পড়ে। কিন্তু লাইব্রেরীয়ান নেই, পদও নেই। অভ্যন্তরীন ফান্ড থেকে একজন খন্ডকালীন লাইব্রেরীয়ান রেখে কাজ চালানো হচ্ছে।
ডাবল শিফটের স্কুল হিসেবে ২জন অফিস সহকারির পদ থাকলেও একটি পদেও লোক নেই। অভ্যন্তরীন তহবিল থেকে একজন অফিস সহকারি দিয়ে অফিস কাম হিসাব রক্ষক কাম কম্পিউটর অপারেটরের কাজ চালাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ে ৫জন কর্মচারি থাকার কথা। তন্মধ্যে ২জন মাত্র আছেন। অভ্যন্তরীণ ফান্ড থেকে ২জন কর্মচারি ও একজন নৈশ প্রহরী রেখে কাজ চালানো হচ্ছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গেলো মাসে BCS এর মাধ্যমে ২৯৮জন শিক্ষক সারা দেশে নিয়োগ দেয়া হলেও এ বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকও দেয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে স্থানীয় জন-প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে মৌখিকভাবে ও লিখিতভাবে বারবার জানানোর চেষ্টা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যালয়ের সমস্যাসমূহ সমাধানকল্পে বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের ক্ষেত্রে সর্বজনাব পংকজ কান্তি দে, আবেদ মাহমুদ চৌধুরী, লতিফুর রহমান রাজু, মো. শেরগুল আহমেদ, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী, মো. বুরহান উদ্দিন, ইকবাল কাগজীসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকের আন্তরিক আগ্রহ ও উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।
এতোসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সতীশীয়ানরা কিন্তু বসে নেই। বসে নেই তাদের সুযোগ্য শিক্ষকমন্ডলী। নিবেদিতপ্রাণ এসব শিক্ষক নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্বের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দায়িত্ব পালন করে চলেছেন অকাতরে। তাঁরা শিক্ষার্থীদেরকে লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতি গঠনের কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করার দীক্ষাও দিয়ে থাকেন। সতীশীয়ানরাও তাই অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের যে কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে জাতি গঠনে ব্যতিক্রমধর্মী সৃজনশীল চিন্তা, অনুভূতি ও আগ্রহ-উদ্দীপনা বেশি লালন করে থাকে।   
সতীশীয়ানরা যা চায়—-
এস.সি.-র বালিকারা সরকার কর্তৃক ঘোষিত শিক্ষানীতির পূর্ণ বাস্তবায়নে নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে চায়।
চন্দ্রালোকের বালিকারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে চায়।
সতীশীয়ানরা মুক্ত চিন্তা ও মুক্ত বুদ্ধির চর্চা করে এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমুক্ত হয়ে জাতি গঠনের উপযোগী করে প্রগতিশীলরূপে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে চায়।
সতীশীয়ানরা সর্বশেষ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তির বিদ্যায় নিজেদেরকে আলোকিত করে জাতির নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হতে চায়।
সতীশীয়ানরা সকলের মধ্যে শিশু এবং নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য সচেতনতা সৃষ্টি করতে চায়।
সতীশীয়ানরা শুধুমাত্র নিজেদের কল্যাণ সাধনেই তুষ্ট নয়। বরং নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি গোটা সমাজ ও জাতিকে এগিয়ে নেয়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে চায়।
সতীশীয়ানরা সরকার ও রাষ্ট্র থেকে শুধু শুধু অধিকার আদায়ের মধ্যে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। তারা অধিকার ভোগের পাশাপাশি সরকারের হাতকে শক্তিশালী করণের মাধ্যমে নিজেদের কর্তব্যও পালন করতে চায়।
সতীশীয়ানরা বয়সে ছোট বা ক্ষুদ্র হলেও তারা হীনমন্যতাবোধে  আক্রান্ত নয়। ক্ষুদ্র ইঁদুর বৃহৎ সিংহকে বিপদমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। তেমনি সতীশীয়ানরা মনে করে নিজেরা ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত হলে জাতির বড় বড় সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ও সাড়া জাগানো ভূমিকা পালন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব কিছু নয়।
জাতিকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে অংশ বিশেষের কল্যাণ কামনার পরিবর্তে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সকলের কল্যাণ ও উন্নয়নের মধ্যেই দেশ ও জাতির প্রকৃত অগ্রগতি সাধন সম্ভব বলে সতীশীয়ানরা মনে করে।
“পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়” শিক্ষণীয় এ জ্ঞানগর্ভ কথায় সতীশীয়ানরা বিশ্বাস করে। তাই পাপীদেরকে ঘৃণা ও হিংসা-বিদ্বেষ না করে গঠনমূলক পন্থায় সংশোধন করে তাদেরকে দেশ ও জাতি গঠনের অংশীদাররূপে গড়ে তুলতে সতীশীয়ানরা আগ্রহী।
ভাষা আন্দোলন ও তৎপরবর্তী মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত স্বাধীনতা রক্ষা ও দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজে যারা শহীদ হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন এবং নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁদের সবাইকে উপযুক্ত মূল্যায়ন করতে চায় সতীশীয়ানরা।
সতীশীয়ানরা নিজেদের ও জাতির উন্নয়নে এমন পন্থায় কাজ করতে চায়, যাতে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সত্য সন্ধানী সকল স্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়।
সতীশীয়ানরা ব্যতিক্রমধর্মী ও সৃজনশীল চিন্তা ও কর্মের মাধ্যমে এগিয়ে যাবার কাজে কারো অনুসরণ নয়, বরং নিজেরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অনুসরণীয় হতে চায়।
সতীশীয়ানরা বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিম, লোককবি দূর্ব্বীণ শাহ, মরমি কবি হাছন রাজা ও লোককবি রাধারমণ দত্ত এর জেলার লোক। আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক চিন্তা-চেতনায় বলীয়ান। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ধর্ম, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার নামে বকধার্মিকতা, অশীলতা ও কুসংস্কারে আজ চারদিক সয়লাব। যার ফলে বহু লোক ধর্ম, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতা বিমুখ হয়ে পড়েছে। অথচ ধর্ম, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা ও নৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কর্মক্ষেত্রে ঝাপিয়ে পড়া শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই অধর্ম, অশ্লীলতা ও কুসংস্কার থেকে ধর্ম, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতাকে মুক্ত করে ধর্ম, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতায় বলীয়ান হয়ে এ সবের প্রকৃত রূপ-সৌন্দর্য কার্যত জনসমক্ষে তুলে ধরাও সতীশীয়ানরা নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করে।    
বিপ্লব বা পরিবর্তনের জন্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা মোটেই আবশ্যিক, গ্রহণযোগ্য ও সমীচীন হতে পারে না। সম্পূর্ণ নীরব ও ইতিবাচক অতি সাধারণ উপায়ে সমাজের বৈপ্লবিক ও তড়িৎ পরিবর্তন সম্ভব সতীশীয়ানরা কাজের মাধ্যমে বাস্তবে তা প্রমাণ করতে চায়।  
সতীশীয়ানরা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যতিক্রমধর্মী আকর্ষণীয় কিছু কাজ করতে চায়।
সতীশীয়ানরা এটাও প্রমাণ করতে চায় যে,  দেশ ও জাতির প্রকৃত কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্যে সব সময় বড় নেতা হওয়া বা বড় কোনো পদ বা ক্ষমতায় আসীন হওয়া জরুরী নয়। বরং আবেগ প্রবণ না হয়ে সদিচ্ছা নিয়ে বুদ্ধিভিত্তিক পন্থায় এগিয়ে গেলে প্রত্যেকের পক্ষে নিজেদের অবস্থানে থেকেও দেশ ও জাতির জন্যে অনুকরণীয় অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সম্ভব।       
সতীশীয়ানদের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় উদ্যোক্তার মাধ্যমে তারা ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে-
বাংলাদেশকে সার্বিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্যে পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ করে পারস্পরিক কল্যাণ কামনার পরিবেশ সৃষ্টি করা একান্ত প্রয়োজন। আর এ জন্যে একটি জাতীয় সর্বজনীন অনুষ্ঠান দরকার। এ লক্ষ্যে একটি “জাতীয় দায়মুক্তি দিবস” পালনের আহ্বান জানানো এবং এর বাস্তবায়ন কৌশল ঘোষণার অনুমতি চেয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আবেদন করেছে তারা।
উক্ত আবেদনপত্রের সাথে দেয়া সংযুক্তিসমূহে আবেদিত বিষয়ের প্রেক্ষাপট, গুরুত্ব, সম্ভাব্য ফলাফল, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ইত্যাদির বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। বিগত ২৬/০৯/২০১৭ তারিখ থেকে প্রথমে সমষ্ঠিগত পরে ব্যক্তিগতভাবে তারা আবেদন করা শুরু করেছে।
এস.সি. এর বালিকারা গত আগস্টে জাতীয় শোক দিবসের সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শহীদ শেখ মুজিবুর রহমান এর পরিবারের মর্যাদা বিষয়ে দু’টি প্রস্তাব সর্ব সম্মতিক্রমে পাশ করেছে। বিষয়টি বিভিন্নভাবে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নজরে দেয়া হয়েছে।  
সতীশীয়ানদের উক্তরূপ চিন্তাধারার বিষয়সমূহ ইতোপূর্বে তাদের বর্তমান প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন মাধ্যমে বিশেষ করে তার ফেইসবুক Hafiz Md Mashhud Chowdhury-তে পাবলিক পোস্টের মাধ্যমে এবং Somewhereinblog.net-এ ‘হাফিজ মোঃ মাশহুদ চৌধুরী’ আইডিতে প্রচার করেছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়, শাবি শিক্ষক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শাবি অফিসার্স এসোসিয়েশনের (সাবেক) সেক্রেটারী জনাব মো. ফখর উদ্দিনসহ প্রগতিশীল মুক্তবুদ্ধি ও মুক্ত চিন্তার চর্চাকারী সুশীল সমাজের অনেক ব্যক্তি, সরকারি ও বিরোধী দলীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবর্গ, মুসলিম-হিন্দু-খৃস্টান-বৌদ্ধ ধর্মের অনেক ব্যক্তিত্ব এ ব্যতিক্রমধর্মী সৃজনশীল চিন্তাধারার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কাজেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পেয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী ও বাস্তবায়ন কৌশল ঘোষণা করতে পারলে সর্ব মহল কর্তৃক সেটি গৃহীত হবে বলে আশা করা যায়।
তাই সতীশীয়ানরা (বা এস.সি-র / চন্দ্রালোকের বালিকারা) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে করা আবেদনের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টির অপেক্ষায় পথ পানে চেয়ে আছে বুক ভরা আশা নিয়ে।  
লেখক : প্রধান শিক্ষক, সরকারি এস.সি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ।