বিন্দু তালুকদার ও আকবর হোসেন
আজ রবিবার জেলার জামালগঞ্জের জামালগঞ্জ সদর ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাচন অফিস। শনিবার বিকালেই সকল ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনের সকল সামগ্রী পৌঁছানো হয়েছে।
জামালগঞ্জ সদরে ৯টি ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে ১১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে ৭ জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও ১০ জন আনসারসহ আনাসারের পিসি ও এপিসি মোতায়েন থাকবে।
জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল হাসেম জানিয়েছেন, পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির ৪টি, পুলিশের ২টি ও র্যাবের ২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে, এছাড়া পুলিশের ৮টি মোবাইল টিম থাকবে। দুই ইউনিয়নে ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।
এই প্রথম দলীয়ভাবে নির্বাচন হওয়ায় এই দুই ইউনিয়ন পরিষদে কে হবেন চেয়ারম্যান তা নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয়ভাবে
মনোনয়ন প্রদান করলেও উভয় দল থেকেই চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১২ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৫২ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে লড়ছেন চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪৩ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৭ জন।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জামিল আহমদ জুয়েল (নৌকা) প্রতীক , বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মতিন (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিউর রহমান (চশমা), বিএনপির বিদ্রোহী প্রাথী সাজ্জাদ মাহমুদ সাজিদ (আনারস), আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সহ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন (ঢোল), আওয়ামী লীগ সমর্থক আবুল কালাম আজাদ (মোটরসাইকেল), বর্তমান ইউপি সদস্য শারমিন সুলতানা (রজনীগন্ধা), বর্তমান ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম (টেবিল ফ্যান), জাহাঙ্গীর গনি চৌধুরী (অটো রিকশা), জালাল উদ্দিন (ঘোড়া), সামছুন নুর কামাল (দুটি পাতা) ও আশরাফ হোসেন রুপন (টেলিফোন) প্রতীকে লড়ছেন।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম নবী হোসেন (নৌকা) প্রতীকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান ইউপি সদস্য আলী আক্কাস মুরাদ (ধানের শীষ), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক আলী তালুকদার (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী সদর ইউপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম (চশমা), স্বতন্ত্র প্রার্থী রজব আলী (মোটরসাইকেল) ও সমীরণ পুরকায়স্থ (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী জামিল আহমদ জুয়েলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিদ্রোহী তেমন শক্তিশালী কোন প্রার্থী না থাকলে দল সমর্থনকারী কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান ইউপি সদস্যা শারমিন সুলতানা ও আবুল কালাম।
বিএনপির দলীয় প্রার্থী আব্দুল মতিনের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে ভোট যুদ্ধে রয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছুল আলম তালুকদার ঝুনু মিয়ার ছেলে সাজ্জাদ মাহমুদ সাজিদ। তিনি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু না পেয়েও চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন উপজেলা বিএনপির সহ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন।
নবগঠিত জামালগঞ্জ উত্তরে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম নবী হোসেনের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক আলী তালুকদার। এই ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় প্রাথী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান ইউপি সদস্য আলী আক্কাস মুরাদের বিরুদ্ধে দলীয় কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ভোট বেশী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।
স্থানীয় ভোটারদের ধারনা জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী জামিল আহমদ জুয়েল, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাজ্জাদ মাহমুদ সাজিদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিউর রহমানের মধ্যে ত্রিমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এছাড়াও অন্য কোন প্রার্থী চমক দেখাতে পারেন।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এম নবী হোসেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী আক্কাস মুরাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ পুরকায়স্থ, শহীদুল ইসলাম ও রজব আলীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
জামালগঞ্জ সদর ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্ব রিটার্নিং অফিসার জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. ইউসুফুর রহমান জানান, নতুন দুই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি ইউনিয়নে আনসার, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম থাকবে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুইজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। পাশাপাশি একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। আমাদের আশা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৮ হাজার ৭১৯ জন ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৪ হাজার ৭৯৯ জন। গত বছরের ২৮ জানুয়ারি জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নকে দুইভাগে বিভক্ত করে গেজেট প্রকাশিত হয়। একটির নাম জামালগঞ্জ সদর ও অন্যটির নাম জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন নামকরণ করা হয়। গত ৮ মার্চ নবগঠিত ওই দুই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
- দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ওএমএসের চালের বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি সাধারণ মানুষের
- দুর্নীতিবাজ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী স্ট্যান্ডরিলিজ


