আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ সদরের ২৫০ শয্যা হাসপাতালের নিরাপত্তায় বিঘœ সৃষ্টি হয়ে আসছে বার বার। চিকিৎসক ও নার্স একাধিকবার লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে কিছুদিন আগেও। এসব সমস্যা স্থায়ী সমাধানে পুলিশ বক্স স্থাপনের দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্যদের।
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালকে সি.সি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। কিছু উচ্ছৃংখল ও বখাটের আচরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ পেতে সমস্যা হয়। হাসপাতালে পুলিশের অবস্থান থাকলে বখাটে ছাড়াও পকেটমার ও চোরেরা আসতে সাহস পেতো না।
এই হাসপাতালে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কিন্তু রোগীর ওয়ার্ডে যখন তখন বখাটেরা ঢুকে পড়ে। মহিলা ওয়ার্ডে বা গাইনী ওয়ার্ডের রোগীরা আতঙ্কে থাকেন।
সেবা নিতে আসা রোগীদের আত্মীয় পরিচয়ে নানাভাবে দায়িত্বশীলদের সাথে এসে অসদাচরণ করে বখাটেরা।
হাসপাতালে আছে ডিসফেনসারি। যেখানে চিকিৎসকের দেওয়া স্লিপের মাধ্যমে রোগীদের ওষুধ দেয়া হয়। এই ডিসফেনসারি বিভাগে গিয়েও কতিপয় অসাধু ব্যক্তিরা তাদের প্রভাব খাটিয়ে স্লিপ ছাড়াই ওষুধ নিতে চেষ্টা করে। এমনকি কোনো কোনো ব্যক্তি ওষুধ না পেয়ে অশ্লীল আচরণ করে ফার্মাসিস্টদের সাথে। হৈচৈ করে নানা জট ঝামেলার সৃষ্টি করে।
শিশু বিভাগ ও গাইনি বিভাগেও তাদের স্বজন পরিচয়ে আগে এবং নাগাদ সেবা নিতে প্রভাব খাটায়। এমন সমস্যায় আছে অপারেশন থিয়েটার এবং প্যাথলজিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলরাও। হাসপাতালের ইনডোর ও আউট ডোরের চিকিৎসক, এক্স-রে রুমের অপারেটরের সাথেও খারাপ আচরণ করে কতিপয় উচ্ছৃংখল ব্যক্তি। এমনকি পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে দালাল প্রকৃতির লোকজনের আনাগোনা প্রতিদিনই রয়েছে। সিটে ভর্তি থাকা কোনো কোনো রোগী তাদের আত্মীয় বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। এসব রোগীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় নানা কৌশলে দালালেরা। বখাটেরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে হাসপাতালের বাথরুম ও ওয়াস রুম। এই কারণে প্রায় প্রতি সপ্তাহে পকেটমার বা চুরির ঘটনা ঘটে। এই বখাটেরা হাসপাতালের লিফটে অযথা অবস্থান করে। নারীরা লিফটে উঠা নামার সময় আতঙ্কে থাকেন।
রোগী হোসেন মিয়া বলেন, ৩ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। ওয়ার্ডে এসে বাইরের লোকজন অযথা ঘুরাফেরা করে। আমাদের একজনের টাকা চুরিও হয়েছে। পরে জেনেছি, বাইরে থেকে চোরও এখানে এসে ঘুরাফেরা করে এবং চুরি করে। এমন ঘটনা সচরাচর ঘটে থাকে।
রোগী জাহানারা বেগম বলেন, বখাটেরাও মহিলা ওয়ার্ডে ঘুরাফেরা করে। অনেক মহিলা সিটে শুয়ে থাকে, বখাটে দেখলে চেনা যায়। এতে লজ্জা লাগে, ভয়ও লাগে।
অ্যাড. নুর হোসেন বলেন, সদর হাসপাতালে সার্বিক নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে। এই জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশের অবস্থান প্রয়োজন।
ক্রীড়া সংগঠক পারভেজ আহমদ বলেন, সদর হাসপাতালের রোগীদের সুষ্ঠু সেবা পেতে তাদের ওয়ার্ডে বখাটেদের আনাগোনা বন্ধ করতে এবং ডাক্তার নার্সদের নিরাপত্তা জোরদার করতে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক পুলিশ অবস্থানের ব্যবস্থা করা উচিৎ।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আর.এম.ও) রফিকুল ইসলাম বলেন, যে কোনো সময় যে কেউ এসে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই হুমকি, ধামকি ও মারামারির ঘটনা ঘটায়। এসব ঘটনায় চিকিৎসক ধরে রাখা যায় না। বাইরের লোকজন দ্বারা সংঘটিত অপরাধমূলক ঘটনা প্রতিরোধ করতে সদর হাসপাতালে পুলিশ বক্স স্থাপন খুবই দরকার।
সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা: মো. আনিছুর রহমান বলেন, সদর হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যদিও আমরা পুরো হাসপাতালকে সি.সি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসেছি। তবুও কিছু সমস্যা রয়েছে। বখাটেদের উৎপাতে তাৎক্ষণিক পুলিশ পেতে দেরি হয়ে যায়। এই জন্য সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পুলিশ বক্স স্থাপন করা জরুরি বলে আমি মনে করি।
সিভিল সার্জন ডা: মো. শামস্ উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা আমরা চাই। চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সরকারী সম্পত্তি নিরাপদ রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সে জন্য পুলিশ বক্স স্থাপনের দাবিও আমাদের।


