সবগুলোতেই বিমে রড নেই, অভিযোগ স্থানীয়দের

বিশেষ প্রতিনিধি ও আশিক মিয়া
দোয়ারাবাজারের আজমপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের নির্মিতব্য ঘরের সবগুলোর নীচের বিম ভেঙে করার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি রড না দেওয়ায় দুই দফায় এই পল্লীর সাত ঘরের বিম ভাঙা হয়েছে। অন্য আরও ২৬টির মতো ঘরের নীচের বিম একই অবস্থায় আছে। এগুলো ভেঙে না করলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকবে।
আজমপুরে ৩৭ টি উপহারের ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। এরমধ্যে ২৬ টি ঘরের নীচের বিমের কাজ শেষ করে ৬-৭ ফুট দেওয়াল ওঠেছে। এখানকার ঘরের বিমের ঢালাই রাতে করায় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোয় গত ১২ আগস্ট দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের লোকজন এসে রাতেই ঢালাই করা বিমের অংশ ভেঙে দেখতে পান, কোন কোন বিমে একটা, কোনটাতে দুটো, আবার কোন কোনটাতে কেবল মাথায় চারটি এক-দুই ফুট লম্বা রড দিয়ে ভেতরে রড না দিয়েই হয়েছে বিম ঢালাই। এই অবস্থা দেখে গত ১২ আগস্ট রাতে পাঁচটি এবং ২৭ আগস্ট আরও দুটি ঘরের বিম ভেঙে নতুন করে করা হচ্ছে।
আজমপুর গ্রামের বাসিন্দা রিয়াছত আলী বললেন, ঘর নির্মাণ করার সময়ই রাতে কাজ হচ্ছে জানিয়ে আমরা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলাম। এজন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমাদের তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছিলেন। এখন যাচাই করে দেখা গেছে, ঘরের নীচের বিমে রড দেওয়া হয় নি। প্রথম পাঁচটি এবং পরে আরও দুটি ঘরের বিম ভেঙে নতুন করে করা হচ্ছে। আমরা বলেছি ২৫ থেকে ২৬ টি ঘরের বিম ভাঙলে একই অবস্থা দেখা যাবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল খালেক বললেন, ঘরের বিমে কেবল রড সিমেন্ট কম দেওয়া নয়, মাপেও ছোট করা হয়েছে। সবগুলো বিমই আবার ভেঙে করতে হবে। ঘরের ঠিকাদার আজির উদ্দিনের বিরুদ্ধে শুরুতেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যরা অভিযোগ তুলেছিলেন। বিষয়টি আমলে নেওয়া হয় নি। এখন ভেঙে করা লাগছে। সবগুলো ঘরে একই ধরণের অনিয়ম হয়েছে।
আজমপুরের উপহারের ঘরের কাজের দায়িত্বে থাকা সাবেক ইউপি সদস্য আজির উদ্দিন বললেন, আমি উপহারের ঘরের ঠিকাদার নই, মালামাল সরবরাহ করেছি। ওই সময় ঘরের কাজও দেখভাল করছিলাম। গত ১২ আগস্টের পর আমি আর মালামালও দিচ্ছি না। আমাকে দেওয়া হয়েছিল ৪৫ লাখ টাকা, আমি ৪৯ লাখ টাকার মালামাল দিয়েছি। বিমে রড না দেবার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা প্রিয়াংকা বললেন, উপহারের ঘরে অনিয়ম করে কেউ পার পাবেন না। আজমপুরের নির্মিতব্য ঘরগুলো আমাদের কঠোর মনিটরিংয়ে আছে। দুই দফায় আমরা সাতটি ঘরের বিম ভেঙে কাজ করাচ্ছি। সমস্যা থাকলেই ভেঙে করা হচ্ছে। বাকী ঘরগুলোও ভালো করে যাচাই করা হবে। বিমের অংশও ভেঙে দেখা হবে।