সম্মেলনস্থলে ঢুকতে সুনামগঞ্জের নেতাদের ছিল প্রতিযোগিতা

স্টাফ রিপোর্টার
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাবেশে সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ নেতা-কর্মী অংশ নিয়েছেন। কাউন্সিলর, ডেলিগেটস, কেউবা সম্মানিত অতিথি’র কার্ড নিয়ে প্রবেশ করেছেন তাঁরা। কাউন্সিলর ও ডেলিগেটস কে বেশি নিতে পারেন, এই নিয়ে উপজেলার নেতাদের প্রতিযোগিতা ছিল। জগন্নাথপুর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল বেশি। কাউন্সিলর ও ডেলিগেটস নিয়ে উপজেলার নেতারা একে অপরকে দোষারোপও করেছেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে যোগ দিতে জেলার ১১ উপজেলার সহ¯্রাধিক নেতা-কর্মী রাজধানীতে গিয়েছিলেন।
কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কাউন্সিলরের ১১৪, ডেলিগেটস ১১৪ এবং সম্মানীত অতিথি’র কার্ড ১০০ তুলে দেওয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের হাতে।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের ধানমন্ডির বাসভবন থেকে দলীয় নেতাদের হাতে কার্ড তুলে দেবার সময় উপজেলা ইউনিটগুলোর নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়, কে কার মাধ্যমে কার্ড নিতে পারেন এই চেষ্টা ছিল সকলেরই।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বীরেন্দ্র সুত্রধর’এর মধ্যে এই নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ক্ষুব্ধ হয়ে বক্তব্য দেওয়ায় এই উত্তেজনার অবসান হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবাসী নেতা হারুনুর রশিদ এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম সম্মানীত অতিথি’র কিছু কার্ড দলীয় কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে সংগ্রহ করে নিজেদের সমর্থক-কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ দেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন জানালেন, জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারাসহ জগন্নাথপুরের ১০ জনের মতো নেতা কাউন্সিলর হয়েছেন। ডেলিগেটস হয়েছেন অনেকে। এরপরও কেউ কেউ এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমন পরে অন্যদের বুঝিয়ে দেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীরেন্দ্র সুত্রধর বলেন, অন্য উপজেলার তুলনায় জগন্নাথপুর উপজেলায় কাউন্সিলর ও ডেলিগেটস কম হয়েছে, এজন্য উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দোষারোপ করেছি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি হারুনুর রশিদ ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু সম্মানীত অতিথি’র কার্ড সংগ্রহ করেছেন, তা দিয়েই জগন্নাথপুরের নেতারা প্রবেশ করেছেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, সম্মেলনে উপলক্ষে রাজধানীতে যাওয়া নেতা-কর্মী’র তুলনায় কাউন্সিলর, ডেলিগেটস কার্ড কম ছিল। পরে সম্মানীত অতিথির কিছু কার্ড সংগ্রহ করে অনেককেই ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।
দলীয় দায়িত্বশীলরা জানান, শুক্রবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন সংগঠনের জেলা নেতৃবৃন্দ ও ১১ উপজেলার নেতাদের হাতে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটস’র কার্ড তুলে দেন।