সরকারি কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক দিন

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজটি জেলার একমাত্র উচ্চশিক্ষা গ্রহণের বিদ্যাপীঠ। এখানে কিছু বিষয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স করার সুযোগ রয়েছে। জেলার যেসব অভিভাবক আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে বাইরে ছেলে মেয়েদের পড়াতে পারেন না তারা সর্বতোভাবে উচ্চ শিক্ষার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটির উপর নির্ভরশীল। জেলাবাসীর এই নির্ভরতার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির হাল-হকিকত কেমন? এর কিছু তথ্য জানা গেল গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে পরিবেশিত একটি সংবাদ থেকে। এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৮০০। কলেজে অধ্যক্ষ থেকে সহকারী গ্রন্থাগারিক পর্যন্ত ৬১ টি অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৮ জন। অর্থাৎ প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ পদই শূন্য পড়ে আছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রম বিঘিœত যে হচ্ছে তা বলে বুঝানোর নয়। শিক্ষক সংকটের বাইরে কলেজটির প্রচুর অবকাঠামোগত সংকট বিদ্যমান। এখানে সবগুলো শ্রেণির পাঠ কার্যক্রম চালানোর জন্য দরকার ২৬ টি শ্রেণিকক্ষ কিন্তু রয়েছে ১৪টি। অর্থাৎ শতকরা ৫০ ভাগ শ্রেণিকক্ষ বাদ দিয়েই কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এই সমস্যাগুলির বাইরেও সমস্যা আছে। সেই সমস্যাগুলো অকথিত কিন্তু স্পষ্টভাবে উদ্ভাসিত। যেখানে শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই সেখানে কর্মরত শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাশ গ্রহণের কথা। কিন্তু এরকমটি তো হচ্ছেই না বরং কর্মরত শিক্ষকদের অনেকেই নিজ দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেন না, এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের, এমন কি খোদ অধ্যক্ষের। কর্মরত ৩৮ শিক্ষকের মধ্যে অন্তত ৮ জনের বিরুদ্ধে কর্তব্য ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও কলেজে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমত অবস্থায় জেলার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখন অনেকটা ধুকে ধুকে চলছে।
একটি জেলার প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এরকম অব্যবস্থাপনা ও সুযোগ সুবিধার অভাব মেনে নেওয়া যায় না। এতে করে আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছি। যথাযথ শ্রেণি কার্যক্রম ছাড়াই বসতে হচ্ছে তাদের পরীক্ষা হলে। অবধারিতভাবে ফলাফলে এর প্রভাব পড়ছে। বহু সম্ভাবনাময় তরুণ মেধাবীরা শিক্ষাগ্রহণের পরিবেশ না পেয়ে তলিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটির সমস্যা সমাধানে কোন মহলের কার্যকর কোন উদ্যোগ দেখা মিলে না।
শুধু সরকারি কলেজ নয়, জেলার জাতীয়করণকৃত প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের ক্ষেত্রে একই ধরনের অবস্থা আমরা লক্ষ্য করছি। জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সংবাদ প্রকাশের একদিনের মাথায় চার শিক্ষক একযোগে বদলি হয়ে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে উপহাসে পরিণত করার বাস্তবতা আমরা দেখেছি। জেলার একমাত্র সরকারি মহিলা কলেজটিতেও একইরকম শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকটের কথা সবার জানা। এতসব সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমরা যখন শিক্ষায় উন্নয়নের অভিপ্রায় ব্যক্ত করি তখন সেটি হয়ে উঠে চরম পরিহাস। জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় কিংবা কলেজের ফলাফল বিপর্যয়ের পর নানা সমালোচনায় একটি মহল যেরকম মুখরিত হন তাদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যার সমাধানে তার কিঞ্চিৎ মনোযোগ দিতেও দেখি না আমরা।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজসহ জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানাই।