সরকারি কলেজের পুনর্মিলনী- হার্দিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অনুপম উপলক্ষ হোক

রাত পোহালেই সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দুই দিন ব্যাপী পুনর্মিলনী উৎসব শুরু হবে। প্রায় দুই বছরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর কয়েকবার তারিখ পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত আগামী শুক্র ও শনিবার এই উৎসব হতে যাচ্ছে। সরকারি কলেজের এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি সর্বার্থে সার্থক ও ফলপ্রসূ হোক এই আমাদের কামনা। একটি সার্বজনীন উৎসব আয়োজন সহজ কথা নয়। এর পেছনে থাকে অনেকের অক্লান্ত শ্রম ও মেধা জড়িত। বহু মানুষের সম্মিলিত কর্মপ্রয়াসের সফল পরিণতি ঘটে সর্বাঙ্গ সুন্দর একটি আয়োজনের মধ্য দিয়ে। আমরা আশা করব সরকারি কলেজের এই অনুষ্ঠানটি সেই অর্থে সার্থকতা লাভ করবে।
আজ থেকে ৭৫ কিংবা ৭৬ বছর আগে ভাটির এই জনপদে কলেজের মত একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন যে মহৎপ্রাণ ব্যক্তিরা তাঁদের লক্ষ্য ছিল একটাই। সেটি হল, একটি উন্নত জাতি গড়ে তোলা, একটি আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ করা। ওইসব ব্যক্তিরা সেইসময়ে যে অনবদ্য ভূমিকা রেখে একটি কলেজ স্থাপন করে গেছেন, সেজন্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে, অতীত-বর্তমান ও অসীম ভবিষ্যৎ কাল ব্যাপী তাঁরা বরণীয় ও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আমরা শিক্ষার আলো জ্বালানো সেই মহানুভব ব্যক্তিদের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি।
একটি বিশাল পুকুরের এক প্রান্তে সুবিস্তৃত এলাকা নিয়ে অনিন্দ্যসুন্দর যে কলেজ ক্যাম্পাসটি আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তাকে ঘিরে অনেক প্রৌঢ়, যুবক-যুবতী ও তরুণ-তরুণীর রয়েছে অজ¯্র স্মৃতিগাঁথা। নিজেদের শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন তারা নারিকেল ও নানা গাছের ছায়া সুনিবিড় এই কলেজ ক্যাম্পাসে, পুকুরের সবুজ ঘাস বিছানো পাড়গুলোর স্পর্শ আজও অনেকের আনন্দ স্মৃতি। সেইসব পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিতেই এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। অনেকেই আজ বৃদ্ধ হয়েছেন, অনেকেই যৌবন হারিয়েছেন; কিন্তু এই প্রতিবেশে সকলেই ফিরে যাবেন নিজেদের ঝলমলে তারুণ্যে। কলেজের বারান্দায়, সামনের খোলা চত্বরে, পুকুর পাড়ে, গাছ তলায়, সড়কেÑ যে প্রাক্তন শিক্ষার্থী দল উৎসব উপলক্ষে হেঁটে বসে গল্প গুজবে আড্ডা আনন্দে মেতে উঠবেন প্রত্যেকেই খোঁজে নিতে চেষ্টা করবেন তাদের সেই সোনালি সময়কে। এই অর্থে পুনর্মিলনী উৎসবটি সকলকে অতীতের সোনালি অধ্যায়ে ফিরিয়ে নেয়ার এক পক্সক্ষীরাজ বাহন। এমন দিনে কোনো সমালোচনা নয়, কোনো কূট আলোচনা নয়, কোনো ব্যর্থতার সাতকাহন বর্ণনা নয়: শুধুই হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপনের দিন। প্রাণের সাথে প্রাণ, মনের সাথে মন মিলানোর এই উৎসবটি দুই দিন ধরে সকলকে নির্ভেজাল আনন্দে মাতিয়ে রাখুক আমাদের এই প্রত্যাশা।
মাঘের শীত কমতে শুরু করেছে। শীতের কাতরতা সহনীয় মাত্রায় নেমে আসছে। আর ক’দিন পরই মাতাল বসন্তের হাওয়ায় শাখে শাখে ফুল ফুটবে, পাখি গলা ছাড়বে, পরিবেশ হয়ে উঠবে রঙিন। বসন্ত আগমনের প্রাক্কালে এই উৎসবটি হয়ে যাক প্রাক বসন্ত বন্দনা উৎসবের মহড়ার মতো। শীতের যেটুকু রেশ এখনও রয়ে গেছে প্রকৃতিতে, সমাগতরা হৃদয়ের উষ্ণতা দিয়ে তা দূর করে দিতেই এখানে এসেছেন। এখানে তাই কোনো জড়তা নয়, কোনো ছন্দপতন নয়, কেবলই ভাসবে সুরের মূর্ছনা। হার্দিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অনুপম উপলক্ষ প্রত্যক্ষ করুক শহরবাসী আগামী দুই দিন। এই আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, হাওরের উদার প্রকৃতির জনপদ সুনামগঞ্জ কোনসময়ই বিষাদগ্রস্ত থাকে না। এই জনপদ সর্বদাই আনন্দ এবং সৌহার্দ্যকে, বন্ধুত্ব এবং সম্প্রীতিকে, সমন্বয় এবং সদ্ভাবকে প্রাধান্য দিয়েছে। এরই আরেক দৃষ্টান্ত দেখব আমরা সামনের দুইদিন। নিরন্তর শুভকামনা আমাদের।