ডিগ্রি প্রথম বর্ষে ভর্তির সময় জেলার অন্য কলেজ যেখানে সেশন ফিস নিচ্ছে ৩ হাজার ১ শ’ টাকা সেখানে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ সেশন ফিস নিচ্ছে ৪ হাজার ১ শ’ টাকা। ছাত্রপ্রতি সেশন ফিস ১ হাজার টাকা করে বেশি নেয়ার পরও কলেজ অধ্যক্ষ বলছেন, তাঁরা সরকার নির্ধারিত হারের চাইতে বেশি ফিস নিচ্ছেন না। এটি অবাক করার মতো বিষয় নয় কি? স্কুল-কলেজে ভর্তির মৌসুম শুরু হলেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন খাত দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে বেশি অর্থ আদায় হওয়ার ঘটনা একটি ওপেন সিক্রেট বিষয়। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেলেও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার কারণটি সর্বসাধারণ্যে বোধগম্য হয় না, এই অনৈতিক কর্মকা- থেকে তারা কোনকালেই বিরত থাকেন নি। ছাত্র ইউনিয়ন নামের একটি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সরকারি কলেজে সেশন ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার প্রতিবাদে এবং ফিসের পরিমাণ কমানোর দাবিতে রবিবার কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে। বলাবাহুল্য এই ছাত্র সংগঠনটি অতীতেও বিভিন্ন নামে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার প্রতিবাদে আন্দোলন করে কিছুটা হলেও সফলতা আনতে সক্ষম হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর মূল দায়িত্ব কী হওয়া উচিৎ ছাত্র ইউনিয়নের এইসব কর্মসূচী তার প্রমাণ। দেশে বহু ছাত্র সংগঠন রয়েছে। রয়েছে বড় বড় কমিটি ও আরও বড় নেতা। কিন্তু ছাত্রদের সমস্যা তথা শিক্ষার সমস্যা নিয়ে অধিকাংশ ছাত্র সংগঠনগুলোই যখন সীমাহীন নিরবতা দেখিয়ে চলেছে তখন ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও এক দুইটি সংগঠন যখন শিক্ষার্থীদের স্বার্থে রাস্তায় নামে তখন হতাশার মাঝেও আশার আলো খুঁজে পাওয়া যায়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন সরকার নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে বেশি অর্থ নিয়ে থাকেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তখন সেটি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি কর্তৃক সম্পাদিত দুর্নীতি বলেই বিবেচিত হতে পারে। এখন কথা হলো এই বিবেচনাবোধটি প্রয়োগ করবেন কে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময়ই দায়সারা গোছের আচরণে অভ্যস্ত। আসলে দেখা দরকার সেশন ফিস, পরীক্ষা ফিস ইত্যাদির নামে গৃহীত টাকার কত অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয় আর কতোটা হজম করা হয়। সেই হিসাব নেয়ার কথা ছিল ওইসব প্রতিষ্ঠানের। এই কাজটি করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিভিন্ন ফির নামে অর্থনৈতিক নিপীড়ণের শিকার হতেন না।
সুনামগঞ্জ অঞ্চলটি এখন শিক্ষার সূচকে জাতীয়ভাবে অনেক পিছনে অবস্থান করছে। সকলের সাধারণ প্রত্যাশা হলো পিছিয়ে থাকা শিক্ষার অগ্রগতিকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এই প্রত্যাশা পূরণে দরকার প্রতিবন্ধকতাসমূহের অপসারণ। নামে বেনামে হরেক ধরনের ফিস আদায় করা একটি শক্ত প্রতিবন্ধক নিঃসন্দেহে। এই প্রতিবন্ধকতা দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রত্যাশিত শিক্ষার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে কি? আসল কাজ হলো শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা দূরিকরণে মনোযোগী হওয়া। তাহলে ধীরে ধীরে অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা দেখা যাবে।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের দাবি, আপনারা দয়া করে সরকার নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে এক টাকাও বেশি নিবেন না শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে। আপনাদের মনে রাখা উচিৎ সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের যাবতীয় বিধি-বিধান অনুসরণ করা আপনাদের অবশ্য কর্তব্য। আপনারা বিধিসম্মত জায়গায় অবসন্থান বজায় থাকলে দরিদ্র অভিভাবকবৃন্দ সন্তানদের পড়ালেখার প্রতি অধিক মনোযোগী হতে পারবেন। আর ফিসের পরিমাণ অন্যায্যভাবে বাড়ানোর কারণে যদি অন্তত একজন অভিভাবকও তার সন্তানকে কলেজে ভর্তি করতে ব্যর্থ হন তার দায়-দায়িত্ব আপনাদেরই গ্রহণ করতে হবে।

