সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে নির্দেশনা মোতাবেক ধান ক্রয় শুরু হয়নি

বিশেষ প্রতিনিধি
এবারও সঠিক সময়ে ধান কেনা শুরু হবে কী না, এই নিয়ে শঙ্খা দেখা দিয়েছে হাওরাঞ্চলে। সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে কৃষকরা ধান দিতে পারবেন কী-না এই নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে সুনামগঞ্জের কৃষকদের মাঝে। কৃষক সংগঠকরা জানিয়েছেন, রোববার থেকে সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় ধান ক্রয় শুরু হবার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি এবং ফড়িয়া-টাউট ও মিল মালিকদের কম দামে ধান কেনার সুযোগ দিতেই তালিকা করতে বিলম্বে করে ধান ক্রয়ের দিন-তারিখ পেছানো হচ্ছে।

সুনামগঞ্জে এবার ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর বোরো জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকের ঘরে ধান উঠতে শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি এবছর ১২ লাখের টনেরও বেশি ধানের উৎপাদন হবে। রোববার পর্যন্ত ৫০ ভাগেরও বেশি ধান কাটা শেষ।

হাওরাঞ্চলব্যাপী এমন সুখবরের মধ্যেও দুশ্চিন্তার শেষ নেই কৃষকের। রোববার জেলার কোথাও প্রতি মণ ধানের মূল্য ৫০০ থেকে সাড়ে পাঁচ’শ টাকার বেশি ছিল না। এমন কম দামেও অনেকে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের কৃষক মাখন লাল দাস বলেন, একমণ ধানের উৎপাদন খরচ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। অথচ ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা মণে। ধান কাটার ব্যাপারী খরচ মেঠানো, মহাজনের ঋণ শোধ করা এবং দৈনন্দিন খরচ মেঠানোর জন্য ধানের খলা থেকেই কৃষকরা কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ প্রতি বছরের মতো এবারও নিচ্ছে ফড়িয়া, টাউটগণ। একই মন্তব্য করলেন, এই উপজেলার আনন্দপুরের কৃষক রথীন্দ্র রায়, বিকাশ চক্রবর্তী এবং নোয়াগাঁওয়ের কৃষক সুরেশ দাস।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কার্যকরি সভাপতি সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, সরকারি ধান ক্রয়ে বিলম্ব হলে ধানের দাম পায় না কৃষক। এজন্য সরকার দ্রুত ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু জেলা ধান ক্রয় কমিটি ধান ক্রয় শুরু করতে পারছে না। এই সুযোগে ফড়িয়ারা কম দামে ধান কিনছে। গ্রামাঞ্চলের টাউটরা নানা প্রলোভন দেখিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি কার্ড নিয়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রের অসৎ কর্মকর্তার যোগসাজসে নিজেরা ধান দেবার অপচেষ্টায় ইতিমধ্যে লিপ্ত হয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবির সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, এক একর জমির ধান কাটতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এই টাকাও কৃষকরা মহাজনদের কাছ থেকে ১০০০ টাকায় ২ মণ ধান দেবার শর্তে এনেছেন। আবার কেউ কেউ সুদেও এনেছেন। সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান ক্রয় বিলম্বিত হলে কৃষকরা কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হবেন। না হয় অন্যান্য বছরের মতো লাভের গুড় পিপড়ায় খাবার মতো অবস্থা হবে।

কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা নিশ্চিত করতে ধান কিনতে আরো বেশি স্বচ্ছতা আনার দাবি জানালেন, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার। তিনি ধান কেনার জন্য লটারী’র আগে কৃষকের নামের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান।

জেলা ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানালেন, ধান ক্রয়ের জন্য কৃষকের তালিকা প্রস্তুত না হওয়ায় রোববার থেকে ধান কেনা শুরু করা যায় নি। ৩০ তারিখের মধ্যে তালিকার কাজ শেষ করে এই সপ্তাহ থেকেই ধান কেনা শুরু’র চেষ্টা করছেন তারা। প্রতি কৃষক এবার সরকারী ক্রয় কেন্দ্রে ৩ টন ধান দিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত. ২৬ টাকা কেজি দরে সারা দেশে আট লাখ টন বা দুই কোটি মণ ধান কিনবে এই মৌসুমে সরকার। সুনামগঞ্জ জেলা থেকে কিনবে ২৫ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন। প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪০ টাকা করে নির্ধারণ হয়েছে। এই কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ।