এনামুল হক জুবের
শিক্ষক সংকটে ভুগছে শহরের ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষক সংকটের কারণে প্রতিদিন সব শ্রেণির ক্লাস নেয়াও সম্ভব হয় না। নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ বাথরুম, টিউবওয়েল। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী সংকটও রয়েছে। বিদ্যালয়ের নানা সংকটের কারণে মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক সংকটের কারণে আগামী এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর।
জানা যায়, সরকারী সতিশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষকের পদ সংখ্যা ৫২ টি। কর্মরত আছেন ২৯ জন শিক্ষক, বিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। কাগজে কলমে ২৯ শিক্ষক কর্মরত থাকলেও বাস্তবে শিক্ষা দানে নিয়োজিত রয়েছেন দুই শিফটে (প্রভাতি ও দিবা) মাত্র ২৩ শিক্ষক। বাকি ৬ শিক্ষকের মধ্যে ২ জন মাতৃত্ব ছুটিতে, ২ জন বি-এড প্রশিক্ষণে, ১ জনে প্রেষণে ঢাকায় ও ১ জন অননুমোদিত অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা যায়। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য এই স্কুলে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের সাপোর্টিং স্টাফের অবস্থা আরও করুণ। ৭ জন সাপোর্টিং স্টাফের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১ জন করে দারোয়ার ও ক্লিনার। উচ্চমান সহকারী, হিসাব সহকারী, আয়া, নাইটগার্ড ও অফিস সহায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো খালি পড়ে আছে। ফলে কারণিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে শিক্ষকদেরই। এজন্য বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, ইংরেজী শাখায় ৮ জন শিক্ষকের স্থলে রয়েছেন ৩জন, বাংলায় ৮জন শিক্ষকের স্থলে রয়েছেন ৬ জন, গণিতে থাকার কথা ৬ জন- একটি পদ শূন্য রয়েছে, সামাজিক বিজ্ঞানে ৪ জনের স্থলে কর্মরত আছেন ১জন, ধর্মশিক্ষায় ৪ জনের স্থলে আছেন ২জন, ভৌত বিজ্ঞানে ৪ শিক্ষকের স্থলে আছেন ২ জন, জীববিজ্ঞানে ৪ জন শিক্ষকের স্থলে আছেন ৩ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ৪জন শিক্ষকের স্থলে আছেন ২জন। এছাড়াও ভূগোল ও চারুকলা বিষয়ে কোন শিক্ষকই নেই।
বিদ্যালয়ে ১টি টিউয়ওবেল থাকলেও সেটি রয়েছে পরিত্যক্ত অবস্থায় । বিদ্যালয়ে বাথরুমের অভাব প্রকট।
বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারজানা আলী শুচি জানায়, আমাদের বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষক নেই। যার কারণে প্রায় সময় আমাদের অনেক ক্লাস হয় না। প্রত্যেক বিষয়ে আমাদের শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। ভূগোল, চারুকলায় আমাদের শিক্ষক নেই, এইভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমাদের সামনে এসএসসি এবং জেএসসি পরীক্ষায় ফলাফল তেমন ভাল একটা রেজাল্ট হবে না।
সরকারী সতিশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সেজুতি তালুকদার নদী জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে মাত্র ৪টি বাথরুম রয়েছে। ১টি টিউবওয়েল রয়েছে কিন্তু সেটা নষ্ট থাকার কারণে আমাদের পানি খেতে খুব সমস্যা হয়। আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থী বেশী হওয়ায় টিফিনের সময় লাইনে দাঁড়িয়ে বাথরুমে যেতে হয়। এসব সমস্যা দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন।
সতিশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাশহুদ চৌধুরী বলেন,‘ আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা মোট ১১৮৮ জন। বিদ্যালয়ে মোট ৫২জন শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন ২৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। তার মধ্যে ২জন সিনিয়র শিক্ষক সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক ঘাটতি পূরণ করা খুব জরুরি। বিদ্যালয়ে বাথরুমের জন্য বিদ্যালয়ের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, আমরা খুব দ্রুত কাজ শুরু করব।


