সহায়তা প্রদানকারীর সংখ্যা মাঠে কম

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। মানুষের এমন দুঃসময়ে পাশে থাকা রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন। কেউ কেউ এই মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মারাও গেছেন। একারণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবার মানুষের সংখ্যাও কমেছে।
আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতাদের মধ্যে এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলমগীর কবির। গত সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নান্টু রায়। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত। শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলামিন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক শাহ্ আবু নাসের স্ব-পরিবারে করোনায় আক্রান্ত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল আজাদ রুমানও স্বপরিবারে আক্রান্ত, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ অপু, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুনায়েদ আহমদও আক্রান্ত।
এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন করোনা আক্রান্ত হয়ে সিলেটের বাসায় হোম আইসোলেশনে আছেন।
ইতিপূর্বে করোনার সঙ্গে লড়ে সুস্থ হয়েছেন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আপ্তাব উদ্দিন ও অবনী মোহন দাস, যুগ্মসম্পাদক হায়দার চৌধুরী লিটন, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দলীয় নেতা করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, কোষাধ্যক্ষ ইশতিয়াক শামীম।
জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া করোনার সঙ্গে লড়ে সুস্থ হয়েছেন। করোনার সঙ্গে লড়ছেন জেলা জাসদের একাংশের সাধারণ সম্পদক সালেহীন চৌধুরী।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল কবির রুমেন বললেন, করোনাকালের শুরু থেকেই দলের নেতা-কর্মী এবং দলীয় জনপ্রতিনিধিরা মানুষের সহায়তায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। যারা সুস্থ আছেন, তারা মানুষের পাশেই আছেন। সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বলেই আক্রান্ত হচ্ছেন নেতা কর্মীরা। সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকেই করোনার টিকা নিতে হবে, মাস্কও ব্যবহার করতে হবে। করোনার ভয়ে দলীয় কর্মীদের ঘরবন্দি হলে চলবে না।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল বললেন, জেলা বিএনপির সভাপতি’র নেতৃত্বে গত কয়েকদিন সাধারণের মাঝে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়েছেন। দলীয় নেতা কর্মীরা ক্রান্তিকালে মানুষের মাঝেই আছেন। সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে টিকা গ্রহণ এবং মাস্ক ব্যবহারের অনুরোধ করলেন তিনিও।