সাংবাদিককে চেয়ারম্যানের হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার
সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক এনামুল হককে হুমকি দিয়েছেন বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিম মাহমুদ। গত শনিবার রাত ৮টা ১৩ মিনিটে এনামুল হকের মুঠোফোনে চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর থেকে এই হুমকি দেন। এদিকে
রবিবার বিকেল সোয়া তিনটায় এনামুল হক নিরপত্তা চেয়ে ধর্মপাশা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২২৬) করেছেন।
গত শুক্রবার চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মোবারক হোসেন নামের এক রাজমিস্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছিল দাবি করে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে।
মানবন্ধনকালে ভূক্তভোগী পরিবারে পক্ষ থেকে বলা হয়, মোবারকের চাচা আনিছুল মহিষখলা বাজারে রাজমিস্ত্রী হিসেবে স্যানিটারী সামগ্রীসহ সিমেন্টের খুুঁটি নির্মাণের কাজ করে। এই কাজে মোবারক সহযোগী হিসেবে কাজ করে। সপ্তাহ দুয়েক আগে আনিসুলের কর্মস্থল থেকে চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের বড় ভাই আফছার উদ্দিন ওরফে আফছু কিছু না বলে ইট নিয়ে যায়। আফছার উদ্দিন মহিষখলা বাজারে এই ইট দিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে আনিছুলের সাথে আফছার উদ্দিনের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। আনিসুল আফছার উদ্দিনের বাবাকে বিষয়টি জানালে ক্ষিপ্ত হয় আফছার উদ্দিন। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার আফছার উদ্দিন আনিছুলকে তার ঘরে ধরে নিয়ে মারধর করে। এরই জেরে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ, আফছার উদ্দিন, সোহেল মিয়া, মনির ভূইয়াসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে দেশীয় অস্ত্রসহ মহিষখলা বাজারে আনিসুলের ওপর হামলা করতে আসে। এ সময় তাকে না পেয়ে মোবারকের ওপর হামলা চালায় তারা। এতে মোবারক গুরুতর আহত হয়। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আজিম মাহমুদের বিরুদ্ধে তার ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের নিরীহ ব্যক্তিদের মারধর, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময় জয়পুর গ্রামবাসী মানববন্ধন করে চেয়ারম্যানের শাস্তি দাবি করেছিল। এ নিয়ে জয়পুর গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে মজিবুর রহমান আজিম মাহমুদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছিল, ওই ইউনিয়নের সাতুর গ্রামের ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে সৌরভের সাথে মজিবুর রহমানের ভাতিজা মুরসালিনের মধ্যে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। মজিবুর রহমানের দাবি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌরভের পক্ষে চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ তার লোকজন নিয়ে ওইদিন মধ্যরাতে জয়পুর গ্রামে গিয়ে মজিবুর রহমানের ভাতিজা শাহ আলমকে মারধর করে। এছাড়াও পাশ্ববর্তী ঘরগুলোতেও হামলা চালানোর পাশাপাশি একই গ্রামের আর্শাদ মিয়ার ঘরেও হামলা চালানো হয়। লাঞ্চিত করা হয় আর্শাদ মিয়ার স্ত্রীকে। অন্য বাড়িতে অবস্থানকারী মজিবুর রহমানের ছোট ভাই সাইদুর রহমানের হাত ও চোখ বেঁধে মজিবুর রহমানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মজিবুর রহমান ও তার স্ত্রীকে হাত-পা বেঁেধ মারধর করা হয়।
এ নিয়ে গত শনিবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ‘চেয়ারম্যান আজিমের ভয়ে আতঙ্কে মানুষ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে আজিম মাহমুদ ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার রাত ৮টা ১৩ মিনিটে সাংবাদিক এনামুল হককে মুঠোফোনে কল করে বলেন, ‘আমি আজিম মাহমুদ বলছি, এর সত্যতা যদি প্রমাণ না হয় তাহলে চামড়া বদলাইয়াম। এই ব্যাডা তুই কালকে আইবে না আমি আইতাম।’
সাংবাদিক এনামুল হক বলেন, ‘এলাকাবাসীর মানবন্ধনের প্রেক্ষিতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আর এতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন এবং আমার চামড়া বদলাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। একজন জনপ্রতিনিধির এমন অশুভ আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। একজন গণমাধ্যমকর্মীর সাথে যদি তিনি এমন আচরণ করতে পারেন তাহলে সাধারণ জনগণের সাথে কেমন আচরণ করেন সেটা কল্পনা করলেই বুঝা যায়।’
ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ এই প্রসঙ্গে বলেন, সাংবাদিক এনামুল আমার ঘনিষ্ট মানুষ। তিনি একটি অসত্য সংবাদ প্রকাশ করেছেন। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এই মানববন্ধন করিয়েছে এবং মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছে। রাজমিস্ত্রির মারপিটের ঘটনার সঙ্গে আমি যুক্ত নয়। আমি সাংবাদিক এনামুলকে বলেছি, আপনি যা বলেছেন সত্য হলে প্রমাণ করে দিয়ে যান। উত্তর-দক্ষিণ বংশিকুন্ডা ইউনিয়নে কেউ আমি এ ঘটনায় যুক্ত ছিলাম বলবে না। এর আগে জয়পুরের ঘটনাটি নিয়েও সংবাদ সম্মেলন করে আমার অবস্থান আমি ব্যাখ্যা করেছি।
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাংবাদিক এনামুল তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে একটি জিডি করেছেন। আমরা বিষয়টি দেখবো।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে সাংবাদিক এনামুলের জিডির বিষয়টি জানিয়ে রাখা হয়েছে।