স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভির প্রতিনিধি শহীদনূর আহমেদকে এক ছাত্রলীগ ও এক যুবলীগ নেতা প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ হয়েছে। হুমকির পর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
এদিকে এই হুমকির প্রতিবাদে এবং হুমকিদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে বুধবার সুনামগঞ্জে মানববন্ধন হয়েছে। পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বেলা আড়াইটায় ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ সংগঠনের জেলা শাখার ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়। শহীদনূর আহমেদ এই সংগঠনের জেলা কমিটির সাগঠনিক সম্পাদক।
মানববন্ধন চলাকালে সংগঠনের জেলা কমিটির সহসভাপতি আলী হায়দারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার ও সুখেন্দু সেন, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, যুগ্ম সম্পাদক সালেহীন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে কুদরত পাশা, দপ্তর সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন প্রমুখ।
শহীদনূর আহমেদ জিডিতে উল্লেখ করেছেন, তিনি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ ও মতামত প্রকাশের কারণেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার রাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমেদ এবং পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা যুবলীগের উপদপ্তর সম্পাদক মতিউর রহমান তাকে মুঠোফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে তিনি থানায় জিডি করেন।
তবে ছাত্রলীগ নেতা নাইম আহমদ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যুবলীগের মতিউর রহমান বলেছেন, শহীদনূর আর আমি পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দা। এলাকায় একটি সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। কাজে তিনি বারবার বাধা দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে কিছু কথা কাটাকাটি হয়। তিনিই আমাকে আগে গালিগালাজ করেছেন, পরে রাগে আমি দুয়েক কথা বলেছি। এখন আমার অংশের কথা ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। তার অকথ্য ভাষায় বলা অংশ প্রচার করা হয় নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ বলেছেন, আমার চাইতে শহীদ নূর আমাকে বেশি গালিগালাজ করেছেন। পরে আমি কিছু কথা বলেছি। আমি তাকে বলেছিলাম ফেসবুকে ছাত্রলীগকে নিয়ে কটুক্তি না করে, তথ্য থাকলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা ভালো।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, পুলিশ জিডির বিষয়টি তদন্ত করছে।


