সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে খুশী করার অভিযোগ পাউবো প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

সোহানুর রহমান সোহান
বাঁধের কাজে দুর্নীতি ঢাকতে সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে খুশী করার অভিযোগ ওঠেছে সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
জানা যায়, শনির হাওরে গত ১৫ এপ্রিল শনিবার ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে যান পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খুশী মোহন সরকার, সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে সংবাদকর্মীরা যান তাঁদের সঙ্গে। কর্মকর্তারা ওখানে বাঁধের কাজ শেষ ঘোষণা দিয়ে চলে আসলেন, সংবাদ কর্মীরাও যার যার কর্মস্থলে ফিরে আসেন। হঠাৎ সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয় তোলপাড়। ফোনে ডেকে ডেকে চলতি অর্থ বছরের সুনামগঞ্জের হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ ও অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের উপঢৌকন দেওয়া হচ্ছে এমন কমেন্টস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অভিযোগ ওঠে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদের বিরুদ্ধে।
এসময় বেসরকারি টেলিভিশন ও পত্রিকার ১৮ জন সাংবাদিককে ১০ হাজার করে টাকা বিতরণ করার কথাও চাউর হয়। টাকা নিতে ফোন পাওয়া, কয়েকজন সংবাদকর্মী তা প্রত্যাখ্যানও করেন। কোন কোন সাংবাদিক ওখানে যাওয়ার সংবাদও চাউর হয়।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী—২ মো. শামছুদ্দোহা বলেন, হঁ্যা, সাংবাদিকরা এসেছিলেন আমাদের অফিসে, তবে আমার রুমে কেউ আসে নি এবং তারা উপরতলায় গিয়েছেন কিন্তু কেন, কি কারণে গিয়েছেন সেটা জানি না।
বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির নিজস্ব প্রতিবেদক দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকেও কল দিয়েছিলেন, আমি যাই নি, পরে শুনলাম সাংবাদিকদের ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের এতো টাকা কি করে, কোন তহবিল থেকে দেওয়া হলো তদন্ত হওয়া দরকার।
দৈনিক কালেরকণ্ঠের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি শামস শামীম বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের অনিয়ম দুর্নীতি তুলে না ধরতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার আমাকে ফোন দিয়ে বলেন. অফিসে আসেন আপনার জন্য সম্মানী আছে, তখন আমি সাফ নিষেধ দিয়ে বলি আমি এসবে কোনদিন যাব না, টাকাও নিব না।
সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দৈনিক আমাদেরসময় ও আরটিভির জেলা প্রতিনিধি বিন্দু তালুকদার বললেন, একজন জেলা কর্মকর্তা এতো টাকা বিলি করেন কীভাবে। কতটাকা লুটপাট করে তিনি এতো টাকা সাংবাদিকদের দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক একেএম মহিম বললেন, বাঁধের কাজের শুরু থেকেই অনিয়মের নানা কথা ওঠে। একসময় ঠিকাদারী প্রথা ছিল। তখন ছিল একধরণের, এখন আরেকধরণের দুর্নীতি হয় । ২০০ কোটি টাকার কাজের অনিয়ম এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় লুকোনোর চেষ্টা এটি।
টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’এর সহ—সভাপতি অ্যাডভোকেট খলিল রহমান বললেন, দুর্নীতি বা অনিয়ম ঢাকতে গণমাধ্যম কর্মীদের টাকা দেবার চেষ্টা হলে এটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের দুর্বলতা প্রকাশ পায়।
সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ কান্তি দে বললেন, সাংবাদিকতরা যে কোন মাঠ ভিজিটে বা পরিদর্শনে যেতে পারেন, এর প্রচলন আছে। তবে আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে, এটি সঠিক কাজ হয় নি। ঘটনাটি লজ্জার।
অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বললেন, এসব ভুয়া কথাবার্তা। আমি কাউকে কোন টাকা দেই নি। তাহলে অফিস সময়ের বাইরে রাতে পাউবো অফিসে সাংবাদিকদের আনাগোনা কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কড়া রোদেও এই সময়ে তিনি নদীতে পানি বাড়ার গল্প শুনিয়ে বললেন, পানি বৃদ্ধির খবর নিতে সবাই অফিসে এসেছিলেন।