সাইদুর রহমান আসাদ
তাহিরপুরের আলোচিত সাকিব হত্যাকারীদের বিচার দাবি করলেন রাজনীতিকরাও। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মধ্যযুগীয় কায়দায় খুন করা হয়েছে সাকিবকে। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এই হত্যাকান্ডের বিচার কালক্ষেপন হলে, সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন মোশাররফ হোসেন তালুকদার। তাদের ধারণা এরকম হত্যাকান্ড ঘটিয়েও ক্ষমতার প্রভাবে পার পেয়ে যাবেন। এজন্য বাড়িতে ডেকে নিয়ে তারা নৃমমভাবে হত্যা করেছে সাকিব নামের ছেলেটিকে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কর বলেন, এই ঘটনার পর দলের উর্ধতন নেতৃবৃন্দ খোঁজ খবর নিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের অবস্থান পরিষ্কার। অপরাধী যদি দলেরও হয়, তার শাস্তি দাবি করি আমরা। তবে এবিষয়ে যেহেতু মামলা হয়েছে, পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে আশা করছি।
সুনামগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ আদালতের সহকারী সরকারি কৌশুলী (এজিপি) অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন বললেন, এ ধরনের অপকর্মের দায় দল বা সরকার কেউ নেবে না। আইন যারা নিজের হাতে তুলে নেয়, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহসভাপতি অ্যাড. খলিল রহমান বলেন, ছবিতে দেখেছি ছেলেটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। যা খুবই নিন্দনীয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।
সুনামগঞ্জ সিপিবি’র সভাপতি অ্যাড. এনাম আহমদ বলেন, এসব রাজনৈতিক দুবৃত্তদের এখনই শায়েস্তা করতে না পারলে শান্তির এই জেলা অশান্ত হয়ে যাবে। এরকম ঘটনা মিডিয়ার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য এলাকায় দেখেছি। এখন তা সুনামগঞ্জেই ছড়িয়ে পড়েছে। জেলায় এর আগে এধরণের ঘটনা ঘটে নি। আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর জানাই।
তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের প্রতি অনুরোধ জানাই এসব সন্ত্রাসীদের লালন পালনের পরিণাম কারও জন্যই শুভ হবে না। ইতিহাস আমাদের এ শিক্ষাই দেয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন বলেন, অভিযোগ হলেই প্রমাণ হয় না, কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমরা চাই এই ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হোক। তবে বিষয়টি যেহেতু তদন্তাধীন, তাই এবিষয়ে এখন আমরা কিছু বলতে চাই না। তদন্তে সে যদি দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরাও ব্যবস্থা নেবো।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম খান বলেন, চাঞ্চল্যকর সাকিব হত্যাকান্ডে রুজুকৃত মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মোশাহিদ তালুকদারকে শনিবার রাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনায় জড়িত বুলবুল আহমদ নামে আরেকজনকে শুক্রবার রাতে বিশ^ম্ভরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে।
গত সোমবার ডেকে নিয়ে ঘাঘটিয়া গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে সাকিবকে হাত পা ভেঙে হত্যা করে খুনীরা। ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে নিহত সাকিবের বাবা মুজিবুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন তালুকদারকে প্রধান আসামী করে ১০ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রেকর্ডভূক্ত এক আসামী ছাড়াও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে।


