আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৩৪ সালে সিলেটের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে একজন অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক, ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহা ঐক্যজোটের মনোনয়নে সিলেট-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘সংসদ সদস্য’ নির্বাচিত হন। ৬ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন। এরপর ১২ জানুয়ারি, ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে ২য় মেয়াদে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পান তিনি।
১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস-এ (সিএসপি) যোগদানের পর মুহিত তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার, পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকার এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব্ পালন করেন। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে তিনি পরিকল্পনা সচিব এবং ১৯৭৭ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগে সচিব পদে নিযুক্ত হন।
অর্থনৈতিক কূটনীতিতে মুহিত সবিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় তিনি একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব।
সম্প্রতি ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে সিলেটে আসেন অর্থমন্ত্রী। নিজ বাসভবনে সাংবাদিক মো. শাকির হোসাইনের সাথে একান্তে কথা হয় দেশের সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা আর অর্থনীতিতে তাঁর নেয়া নানা পদক্ষেপ প্রসঙ্গে।
প্রশ্ন: হলি আর্টিজেনে হামলার পর অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি?
অর্থমন্ত্রী: না তেমন কিছুই হবে না, প্রথম দিকে হয়তো একটু খানি স্তিমিত হতে পারে। কারণ এখানে যেটা হয়েছে, অসম্ভব উগ্রপন্থি, সুশিক্ষিত বিপথগামী ছেলে, তারা বির্ধমীদের হত্যা করেছে, দুঃখজনক হলেও এদের বেশিরভাগ জাপানি। এখানে সম্মানের বড় জায়গা হলো আমাদের ছেলে রোহান, তাকে বের করে দিয়েছিল কিন্তু সে তার বন্ধুর জন্য ফিরে গেছে, একজন ভারতীয় আর ২ জন আমেরিকান। সে যে বিসর্জন করলো তা নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারি। এটা আমাদের চিরদিন মনে থাকবে। একটা সুন্দর জীবন চলে গেল। সে সুযোগ পেয়েছিল কিন্তু সে যায়নি, আমি কেন অনেকেই তাকে নিয়ে গর্ব করে।
আরেকটি জিনিস যেটা আমার কাছে মনে হয় সেটা হলো শিক্ষা।
অভিভাবকরা আমাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করি না, ছেলে পরীক্ষায় প্রথম হচ্ছে, খেলাধুলায় ভাল, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘোরাফেরা করে কিন্তু পরিবার ঠিক মতো খেয়াল করে না। সন্তানদের জন্য মা-বাবার অবশ্যই সময় বের করতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে মা-বাবার ভালবাসার সম্পর্ক থাকা দরকার। এরকম থাকলে এমন নৃশংস জীবের সৃষ্টি হবে না।
প্রশ্ন: বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাবে কি না?
অর্থমন্ত্রী: কিছুটা বিঘিœত তো হবেই, এভাবে বাছাই করে তাদের মারা হলো সেজন্য, তবে এটা বাংলাশের নিয়মিত চিত্র নয়, এটা ব্যতিক্রম, আমার মনে হয় বিদেশীরা এটাকে সেই ভাবেই দেখছে এবং দেখবে। এর প্রভাবটা অন্য রকম, এখানে শুধু বিদেশী দেখেই মারা হয়েছে।
সরকার এটা উদঘাটনের মাধ্যমে মোকাবিলা করবে। জঙ্গিবাদের প্রশ্রয় না দিয়ে। শেখ হাসিনা এটা ভালভাবে জানেন। বাংলাদেশ আবারো প্রমাণ করেছে এখানে জঙ্গিবাদের কোন জায়গা নেই।
অর্থনীতিকে কোন চাপ নেই এখন। যে কৃষি কাজ করছে সে কৃষি কাজ করবে, যারা ব্যবসা করছে তারা ব্যবসা করবে । শুধু একটু নিরাপত্তা বাড়বে, এতে অর্থনীতিতে কোন চাপ পড়বে না।
প্রশ্ন: জাইকা বিনিয়োগ কর্মকান্ড সরিয়ে নিবে, এ নিয়ে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যদি তাই হয় তাহলে সরকার কিভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করবে?
অর্থমন্ত্রী: আমি জানি না, বলতে পারবো না। তবে জাইকার বিনিয়োগ কমবে না। তবে জাপানের কিছু স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
প্রশ্ন: জাপানী এনজিওরা সফর বন্ধ করে দিয়েছে, স্পেশাল ইকোনমিক জোনও করতে চাইলো, এতে কোন প্রভাব পড়বে কি না?
অর্থমন্ত্রী: এনজিওরা সফর বাতিল করেছে ভালই করেছে। এই সময় না আসাই ঠিক। আর স্পেশাল ইকোনমিক জোন’র কাজে কোন প্রভাব পড়বে না এবং এর কাজ তাড়াতাড়িই শুরু হবে।
প্রশ্ন: ফরেন এইডের উপর প্রভাব পড়বে কি না?
অর্থমন্ত্রী: সহায়তা এমনিতেই অনেক কমে গেছে। এখন ১.৩-৪ শতাংশে নেমে এসেছে। সহায়তা বন্ধ হচ্ছে না, তবে পারসেনটেজ কমছে । এটা কমতেই থাকবে। এমন সময় আসবে আমরা আর বিদেশীদের সহায়তা নেব না, শুধু ঋণ নেব। সহায়তার পরিমাণ কমলেও কোনো সমস্যা হবে না।
প্রশ্ন: সরকারী ব্যাংকে খেলাপী কমছে না, সরকারের নানা পদক্ষেপ কেন কাজ করছে না, এখন কি করবেন?
অর্থমন্ত্রী: সরকারী ব্যাংকে খেলাপী কমছে না এটা সত্য, উনারা বলেন রাজনৈতিক প্রভাব, আমি এটা মানতে পারি না, কার কাছ থেকে প্রভাব? আ.লীগের এমপি, আ.লীগের গুন্ডপান্ডা? আমি মনে করি না তাদের কোন হস্তক্ষেপ আছে। আমি কি কোনদিন তাদেরকে বলেছি কোন আ.লীগার লিডারকে ঋণ দেওয়ার জন্য? তারা পলিটিকাল প্রেসার বলতে কি বুঝায়? এসব তারা মিথ্যা কথা বলে। তারা কেন এমপিদের, নেতাদের কথা শোনে। আমি জানতে চাই কে তাদের চাপ সৃষ্টি করে, তাদের আমি জেলে দেখতে চাই। আমি তো কখনো চাপ দেইনি, আমার প্রতিমন্ত্রী দেন না তাহলে কে দেয়?
প্রশ্ন: আপনি বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন আর্থিক খাতে পুকুরচুরি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী: হ্যা, সেগুলো সবগুলারই দুদকে মামলা হচ্ছে এবং তদন্ত হচ্ছে। দ্যাটস ইট। দ্যাটস দ্যা অনলি ওয়ে টু ডু সামথিং। ইউ হ্যাব টু গ টু দ্যা কোর্ট অফ ল, ইউ ক্যাননট হ্যাব এনি আদারস সিস্টেম।
প্রশ্ন: সেই ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে পুকুরচুরি রোধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না?
অর্থমন্ত্রী: হ্যা, সবগুলো পুকুরচুরি ঘটনা আবার কেস ফাইল হবে।ওটা বাদ গেছে ওই বেটা চোর বাচ্চু, ওই বাচ্চু চোরা বাদ গেছে, ওইটা হবে না এখন।ওটার তদন্ত রিপোর্ট যেটা আছে এখন ওটা যখন কোর্টে যাবে দ্যা কোর্ট ক্যাননট প্রসিড উইদাউট মেকিং এনি রিফিউজস।
প্রশ্ন: বাচ্চু’র বাদ দেয়ার বিষয়টা?
অর্থমন্ত্রী: ওইটা দুদকে বাদ দিয়েছে, ওইটা আমি কিছুই বিলতে পারব না।
প্রশ্ন: সরকারি ব্যাংক নিয়ে এখন কি পরিকল্পনা করছেন? রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার চেষ্টা আছে কি?
অর্থমন্ত্রী: ড. ফরাস বলেছেন একমাত্র সোনালী ব্যাংক রেখে সবগুলোকে বাদ দিয়ে দেয়ার কথা, সেটা অবশ্য হবে না। কিন্তু আমি মনে করি ধারণাটা ভাল, কম সংখ্যক সরকারী ব্যাংক থাকা ভাল।
আমি সরকারী ব্যাংক কমানোর ব্যাপারে সমর্থন করি। সরকারী ব্যাংক হিসাবে সোনালী ব্যাংক তো থাকবেই এর সাথে আরো দুই-একটা বিশেষায়িত ব্যাংক রাখার কাজ করছি।
প্রশ্ন: ট্রানজিটে মাশুল কম দেয়া হয়েছে, টনপ্রতি ১৯২ টাকা?
অর্থমন্ত্রী: আমি এই বিষয়ে জানি না, তবে আমার ধারণা টেকনিক্যাল কমিটি এর সুব্যবস্থা নিবে।
প্রশ্ন: কবে নাগাদ রেল ও সড়ক পথে ট্রানজিট চালু হবে?
অর্থমন্ত্রী: আমাদের দিকে থেকে আমরা তৈরি তবে ঐদিকে এখনো হয় নাই। চলতি অর্থবছরেই সম্ভবনা আছে। আমরা এজন্যে বাজেটে বরাদ্দ রেখেছি।
আপনাকে ধন্যবাদ
অর্থমন্ত্রী: তোমাকেও ধন্যবাদ।
- ঐতিহ্য যাদুঘর যেন ‘সুনামগঞ্জবাসীর হৃদয়’
- মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বগণ দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করে


