স্টাফ রিপোর্টার
লকডাউন শিথিল এবং মার্কেটসহ নানা ধরণের প্রতিষ্ঠান চালু করার ঘোষণা দেয়ার কারণে এই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাটাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশিরভাগ জায়গা বিশেষ করে মার্কেটে, বাস স্ট্যান্ডে স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেউ। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বহুগুণ বেশি মানুষ পথে নেমেছে। সড়কের পাশে ফুটপাতে ফের বসেছে দোকান। মোড়গুলোতে মানুষের ভিড়। ভিড় আছে ওএমএস’র ১০টাকা মূল্যের চাল বিক্রির ক্ষেত্রেও। এমনিতেই জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মানুষ পরস্পরের সংস্পর্শে গিয়ে রোগটির সংক্রমণ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়ার আশংকা করেছেন অনেকে।
সরজমিনে দেখা যায়, লকডাউন শিথিল করার পর থেকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, মধ্যবাজার, পশ্চিম বাজার, পৌর মার্কেট, উকিলপাড়া, কাজির পয়েন্ট, সবজি বাজার সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগের মতো মানুষের ভিড় লেগেই আছে। আছে যানজটও।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়গুলোর একটি হিসেবে বিশেষজ্ঞরা যে বিষযটির দিকে সবাইকেই খেয়াল রাখতে বলছেন, তা হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, অর্থাৎ অন্যদের কাছ থেকে শারীরিকভাবে খানিকটা দূরে থাকা। সতর্কতা হিসেবে ভিড় এড়িয়ে চলারও পরামর্শও দেয়া হয়েছে।
কিন্তু শহরের মুদির দোকান, ফুটপাতের ভাসমান দোকান ও কাঁচাবাজারে একজনের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আরেকজন বাজার করছে। সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা করছেন না কেউ। দূরত্ব নিশ্চিত না করেই সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা মাস্ক বা গ্লাভস পড়ছেনা না। নদীর ঘাটগুলোতে শ্রমিকরা আগের মতোই মালপত্র উঠানো নামানোর কাজ করছেন।
পথচারী তুফায়েল আহমদ বলেন, ভোক্তা আর ব্যবসায়ীরা মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। অনেকে ব্যবহার করছেন না মাস্ক। এরকম চলতে থাকলে জেলায় আক্রান্ত কমানো যাবে না। সাধারণ মানুষ মনে হচ্ছে ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছি।
ক্রেতা মাসুক মিয়া বলেন, বাজার করতে এসেছি। দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু অনেকেইে সামাজিক দূরত্ব মানছে না। ঝুঁকি নিয়েই তাই বাজার করতে হচ্ছে।
কালচারাল ফোরাম সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীত শিল্পী রিপন চন্দ বলেন, মানুষের না মানার প্রবণতায় সব অস্বাভাবিক রূপ নিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে চড়া মূল্য দিতে হবে।
জেলা যুব ইউনিয়ন সভাপতি আবু তাহের মিয়া বলেন, কেউ মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। যে যার মতো চলছেন। ক্রেতারা গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছেন পণ্য কেনার জন্য। অনেকের মাস্ক সাথে থাকলেও মুখে নেই, থুতনিতে ও পকেটে পড়ে আছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে। আমাদেরকে আর বেশি বেশি সচেতন হতে হবে, কেননা এখন সংক্রমনের হার বাড়ছে।
- মাস্ক ব্যবহার না করলে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি
- নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ার সাথে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা


