কাজী সালাউদ্দিনের মুখ থেকেই বাফুফের নির্বাচনের ইশতেহার শোনার আগ্রহ ছিল সবার। কিন্তু রাজধানীর একটি হোটেলে শুক্রবার বিকেলে ইশতেহারের ঘোষণার সময় দেখা মিলল না বাফুফের বর্তমান সভাপতির। তাঁর অনুপস্থিতে দুই পাতার নির্বাচনী ইশতেহার পড়ে শোনান সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক তরফদার রুহুল আমিন। বাফুফের বর্ষপঞ্জিতে যেসব টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা এত দিন বলে এসেছেন কর্মকর্তারা, সেগুলোই আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের সাফল্যের প্রয়োজনে দেশের সব ক্লাবকে অর্থ ও কোচ দিয়ে দল গড়তে সাহায্য করাসহ নিয়মিত টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হবে। জাতীয় দলের উৎসমুখে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় তৈরির জন্য সিলেট ফুটবল একাডেমিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়া হবে।
ইশতেহারে বাফুফে ভবনে আন্তর্জাতিক ফিটনেস সেন্টার গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, সেটির সুবিধাভোগী হবে জাতীয় দল। প্রতিটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে একটি করে ফুটবল টার্ফ ফিফার সহায়তায় স্থাপন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফুটবলকে বাংলাদেশের আনাচ-কানাচে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সব জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। যাতে করে ডিএফএগুলো প্রয়োজনমতো খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত লিগ পরিচালনা করতে পারে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ সুপার লিগ (বিসিএল) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ডিএফএকে প্রতিবছর দুই লাখ করে টাকা দেওয়া হবে। সহায়তা করা হবে পর্যায়ক্রমে ফুটবল কোচিং সেন্টার গড়ে তুলতে।
অবশ্য কিছু উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা আছে সালাউদ্দিন পরিষদের। যেমন সব বিভাগীয় শহরসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি–বেসরকারি উদ্যোগে ফুটবল একাডেমি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই ফুটবল একাডেমিগুলো পর্যায়ক্রমে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন ফুটবল একাডেমির কারিগরি সহায়তা যাতে পায় সেই চেষ্টা করা হবে।
সারা দেশ থেকে একটি নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে ১০ থেকে ১১ বছরের ১৫০ জন খেলোয়াড় বাছাই করা হবে। এক বছরের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এদের মধ্যে থেকে ৪০ জনকে বাছাই করে পাঠানো হবে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার ফুটবল একাডেমিতে। উদ্দেশ্য উন্নত প্রশিক্ষণ। নিয়োগ দেওয়া হবে জাতীয় দলের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কোচ, গোলরক্ষক কোচ, ফিটনেস ইনস্ট্রাক্টর ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ।
জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, শেরেবাংলা কাপের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজন করা হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবল লিগ ৮টি বিভাগীয় শহরে হবে নিয়মিত। কোচ ও রেফারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বছরে অন্তত ৪-৫ টি আন্তর্জাতিক ফিফা প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও কোচদের জন্য সম্মানী ও খেলোয়াড়দের বিমাব্যবস্থা চালু করার কথাও বলা হয়েছে।
কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী, সহসভাপতি প্রার্থী বাদল রায়, শামসুল হক চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি ও সদস্য প্রার্থী বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদসহ অনেকে।
- নাজমুল হুদার ‘তৃণমূল বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- স্ববেতন ছুটি ও শ্রম আইন কার্যকরের দাবিতে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের স্মারক লিপি


