স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ শনিবার। এ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সন্ধ্যা ৭টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষের বিভক্তির পর ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ কলকাতা সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়। একই সম্মেলনে খোকা রায়কে সম্পাদক করে কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ব বাংলা আঞ্চলিক কমিটি তথা পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটি গঠন করা হয়। স্বাধীনতার পর দলটি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সংক্ষেপে সিপিবি নামে পরিচিত হয়।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কমিউনিস্ট নেতাকর্মীদের ওপর হত্যা, নির্যাতন ও জেল-জুলুম-হুলিয়া চাপিয়ে দেয়। অসংখ্য কমিউনিস্ট নেতাকর্মী দেশত্যাগে বাধ্য হন।
এর পরও তখনকার কমিউনিস্ট সংগঠকরা সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। তেভাগা, নানকার, হাজং-টংকসহ নানা কৃষক আন্দোলন ও শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি ছাত্র এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংগঠিত করার পেছনে কমিউনিস্ট পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের আন্দোলনসহ নানা আন্দোলন-সংগ্রামে সিপিবি অনন্য ভূমিকা রাখে। সিপিবি রাজপথে প্রতিবাদমুখর হয় ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায়। সিপিবির সাবেক সভাপতি মণি সিংহ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য। নিয়মিত বাহিনীর বাইরেও ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনী গঠন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে জনমত সৃষ্টিতে সিপিবির ভূমিকা ছিল অনন্য। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত অনেকবারই এ দলকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। হারাতে হয়েছে অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মীকে। ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলা হলে পাঁচজন নেতাকর্মী শহীদ হন।
সিপিবি তার দীর্ঘ যাত্রাপথে কয়েক দফা ভাঙনের শিকার হয়েছে। অনেক নেতাই দলত্যাগ করে বিভিন্ন দলে যোগ দিয়েছেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত দলটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে ছিল। পরে নানা সময় নানা গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল জোটে শামিল হয়। বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকেন্দ্রিক দ্বিদলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প বলয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিপিবি কাজ করছে।
সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমদ এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।


