সিলেটে সৈয়দ মুনসিফ আলীর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলায় সমন জারি

সু.খবর ডেস্ক
সিলেটের মাল্টিপ্লান সিটির সত্বাধিকারী সৈয়দ মুনসিফ আলীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। বুধবার সিলেটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাবন তহুরা প্রতারণা মামলায় তার বিরুদ্ধে এ সমন জারি করেছেন।
২০০৫ সালে মাল্টিপ্লান সিটিতে ফ্ল্যাট ও দোকান ক্রয় বাবদ ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকা সৈয়দ মুনফিস আলীকে প্রদান করেছিলেন আব্দুর রহমান। কিন্তু ২০১৬ সাল পর্যন্ত ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চালালে মুনসিফ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী ওই ব্যবসায়ী।
এর প্রেক্ষিতে ফ্ল্যাট কিংবা টাকা ফিরে পেতে ৬ নভেম্বর সিলেটের আদালতে মামলা করেছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান। মামলা নং-সিআর-২০১৩/২০১৬। আদালত তার মামলাটি গ্রহণ করে সিলেটের পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব    
দেন।
পিবিআই সিলেটের সাব ইন্সপেক্টর ঝলক মোহন্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর আদালতে মুনসিফ আলীর বিরুদ্ধে ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে সাব-ইন্সপেক্টর ঝলক মোহন্ত উল্লেখ করেছেন, মাল্টিপ্লান সিটির সৈয়দ প্লাজায় ফ্ল্যাট ও দোকান ক্রয় বাবদ মুনসিফ আলীকে ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেছে ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান।
২০০৫ সালে টাকা প্রদান করলে ২০০৮ সালের মধ্যে ফ্ল্যাট ও দোকান ক্রয়দাতাকে সমঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি করা হয়নি। পরবর্তীতে ২০১২ সালের মধ্যে ফ্ল্যাট ও দোকান সমঝিয়ে দেওয়ার মৌখিক অঙ্গীকার করেছিলেন সৈয়দ মুনসিফ আলী।
বর্তমানে ওই ফ্ল্যাট দোকানের মুল্য প্রায় ৮৩ লাখ টাকা বলে পিবিআই কর্মকর্তা তার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। এদিকে, তদন্ত কর্মকর্তা রিপোর্ট প্রদানের পর গত বুধবার সিলেটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট সরাবন তহুরার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনের উপর শুনানী হয়। শুনানী শেষে আদালত সৈয়দ মুনসিফ আলীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইকবাল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সৈয়দ মুনসিফ আলীর বিরুদ্ধে ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আদালত শুনানী শেষে মুনসিফ আলীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
মামলার বাদি আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, আমি বৈধভাবে ফ্ল্যাট ও দোকান ক্রয় করেছি। কিন্তু টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চালানোর বিষয়টি বুঝার পর উকিল নোটিশ প্রদান করেছিলাম। কিন্তু সে নোটিশেরও জবাব দেননি। শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।