সিলেট গ্লোবাল বিজনেস কনভেনশন সফল হোক

সিলেট অঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণশক্তিরূপে প্রবাসীদের ভূমিকা রাখার সুযোগ সবচাইতে বেশি। যেকোন কারণেই হোক না কেন পৃথিবীর নানা দেশে বসবাসকারী সিলেটিদের নিজের অঞ্চলের শিল্পখাতে বিনিয়োগের প্রবণতা খুব কম। নিজের বাড়িকে প্রাসাদে পরিণত করার বাইরে প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ আর তেমন নেই। অথচ দেশে বিনিয়োগ সক্ষম বহু প্রবাসী বাইরে রয়েছেন। অনেকে দেশে বিনিয়োগে আগ্রহীও বটে। তবে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় তাঁরা কার্যত এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে সাহস পান না, এমন কথা প্রায়শই শোনা যায়। এরকম অবস্থায় প্রবাসী বিনিয়োগে উৎসাহ দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, ‘বিনিয়োগে উৎসাহী প্রবাসীদের সরকারের পক্ষ হতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’ শনিবার সিলেটে অনুষ্ঠিত এনআরবি গ্লোবাল বিজনেস কনভেনশন’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই আশ্বাস দিয়েছেন। ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিবিসিসিআই) উদ্যোগে এই কনভেনশনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সপ্তাহব্যাপী এই কনভেনশনে বিনিয়োগ, পর্যটন ও আইসিটি বিষয়ে একাধিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। মূলত বিবিসিসিআই বহুদিন ধরে বাংলাদেশে ব্রিটিশ বাঙালিদের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর এমন আশ্বাসে নিশ্চয়ই বিবিসিসিআই আরও উৎসাহ নিয়ে নিজেদের কাজকর্ম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
আমাদের পরিহাস হলো দেশে যারা নানা খাতে ব্যবসা করে পূঁজি গড়ে তুলছেন তারা সেই পূঁজি বিদেশে পাচার করে দিচ্ছেন। মূলত ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ না করার জন্য কিছু অসৎ ব্যবসায়ী এই কাজ করে থাকেন। অন্যদিকে অবৈধ পন্থায় যারা অর্থ কামাই করেন তারা নিজেদের কালো টাকাকে নিরাপদ রাখতে এই টাকা বিদেশ পাঠিয়ে দেন। বিদেশ পাচারকারী এইসব টাকার মালিক নিশ্চিতভাবেই দেশের ও মানুষের শত্রু। এরা দেশের রক্তপ্রবাহকে টেনে বাইরে নিয়ে দেশকে রক্তহীন করে দিতে চাইছে। এর বিপরীতে বিবিসিসিআই বাইরের বিনিয়োগকে দেশে টেনে আনতে কাজ করছে। সরকারকে অবশ্যই তাই এই সংগঠনটিকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যেতে হবে। সিলেট অঞ্চলে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, সিরামিক, পর্যটন, আইসিটি, গ্লাস, প্লাস্টিক প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করতে পারলে তাঁদেরকে দেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা সম্ভব। যদি প্রবাসীদের বিনিয়োগ সিলেট অঞ্চলে আসতে থাকে তাহলে এই অঞ্চলের চেহারা পরিবর্তন হতে সময় লাগবে না। বিপুল কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এই অঞ্চলে। এর সুফল জাতীয় অর্থনীতিকেও চাঙা করবে। পক্ষান্তরে বিদেশে দেশের টাকা পাচারকারী অসৎ ব্যবসায়ীদের বিপরীতে একটি সৎ উদ্যোক্তা শ্রেণি গড়ে উঠবে দেশের অভ্যন্তরে।
সিলেটে সপ্তাহব্যাপী যে গ্লোবাল বিজনেস কনভেনশন চলছে আমরা তার সফলতা কামনা করি। আমরা চাই এই কনভেনশন থেকে বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হোক। বিনিয়োগকারীদেরও চিহ্নিত করা হোক। সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আসুক তারা কি ধরনের সহযোগিতা চান। এই প্রক্রিয়ায় সিলেট অঞ্চলে প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল বলে আমরা মনে করি।