স্টাফ রিপোর্টার
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতে সুনামগঞ্জের ১২০ কিলোমিটার সীমান্তে নজরদারী বাড়িয়েছে বিজিবি। জেলার তাহিরপুরের তিনটি শুল্কস্টেশনেও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। ভারত থেকে আসা কয়লা ও পাথর বোঝাই ট্রাকের চালককে এপারের কোন দোকান- রেস্টুরেন্টে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কেবল কাস্টমসের কাগজপত্র রেখে ওপারে বিদায় করা হচ্ছে মালবাহী ট্রাককে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তের তিনটি শুল্কস্টেশন দিয়ে ভারতের মেঘালয় থেকে কয়লা ও পাথর বাংলাদেশে আসে। সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত এসব মালবাহি ট্রাক তাহিরপুর সীমান্তের বড়ছড়া, চারাগাঁও এবং বাগলির জিরো পয়েন্টে এসে মালামাল এপারে রেখে যায়। অন্যান্য সময় মালবাহি ট্রাক বা শ্রমিককে এপারে নামতে দেওয়া হলেও এখন কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানী কারক সমিতির সদস্য সচিব রাজেশ তালুকদার জানালেন, ভারতের মেঘালয় থেকে আসা কয়লা ও পাথর বোঝাই ট্রাককে জিরো পয়েন্ট আসার আগেই জীবানুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে, চালকের পিপি পড়নে থাকলেও জীবানুনাশ স্প্রে করে নিরাপদ দুরত্বে রেখে চালকের কাছ থেকে কেবল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কাগজ বুঝে নিচ্ছেন এবং ওখান থেকেই ট্রাককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী উপজেলা দোয়ারাবাজারের বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বললেন, দোয়ারাবাজারের সীমান্তবর্তী হাটবাজারগুলোয় এখনো ওপারের (ভারতীয় সীমানার) কিছু আদিবাসীদের দেখা যায়। এদের অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবিকে আরও কঠোর হতে হবে। সীমান্তের জনগণকে করোনা সক্রমণরোধে সচেতন করার জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সীমান্তের বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করেছি। মসজিদের মাইক থেকে সচেতন করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জনগণের উদ্দেশ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যা শুক্রবারে জুমআ’র আগে ইমাম সাহেব পড়ে শুনিয়েছেন। ইউপি সদস্যদের বলা হয়েছে, সামাজিকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে।
এই সীমান্তের লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল হক বললেন, সীমান্তে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। বিজিবিও টহল জোরদার করেছে।
সুনামগঞ্জ-২৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল তছলিম এহসান জানালেন, করোনা সক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তে করণিয় বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের পাঠানো প্রজ্ঞাপন তাঁরা পেয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শুল্ক স্টেশনগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানা হচ্ছে। বিজিবি-বিএসএফ’র কার্যক্রমেও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনভাবেই সীমান্তের কাছাকাছি কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
বিজিবি’র অধিনায়ক তছলিম এহসান বললেন, সীমান্তবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধি বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


