সুনামগঞ্জকে ৬ লেন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির দাবি-দরকার ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগ

সরকার সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ৬ লেন সড়কে উন্নীত করার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। সিলেট বিভাগের অধিবাসী হিসাবে আমরা এজন্য আনন্দিত। এই প্রকল্প গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন-বান্ধব চিন্তা-ভাবনার সাথে আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রীর উদ্যোগও জড়িত আছে। এই বিষয়টি আমাদের জন্য আরও গর্বের। সিলেট-ঢাকা সড়কটি ৬ লেনে উনড়বীত হলে এর সুফল আমরা সুনামগঞ্জবাসীও ভোগ করব। রাজধানীর সাথে আমাদের যোগাযোগ বর্তমান সময়ের চাইতে আরও স্বস্তিদায়ক হবে। কিন্তু সুনামগঞ্জের নাগরিক হিসাবে আমাদের মনের কোণে একটুখানি অতৃপ্তিবোধ কাজ করছে। এই অতৃপ্তিবোধ এমন যে, একটি সুরম্য ভবন আমাদের জন্য নির্মিত হচ্ছে তবে ওই ভবনে উঠার যে সামান্যখানি পথ সেটুকু রয়ে গেছে আগের মতোই কর্দমাক্ত, জড়াজীর্ণ। অর্থাৎ প্রকল্পাধীন ৬ লেন বিশিষ্ট সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে উঠতে গেলে আমাদের জেলা সদর থেকে সিলেট পর্যন্ত যে ৬৮ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে সেই অংশটুকুতে লাগছে না ৬ লেনের কোনো উনড়বয়নের ছুঁয়া। এই ৬৮ কিলোমিটার থেকে যাচ্ছে একই রকমের। অথচ সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার প্রকল্পে সুনামগঞ্জ-সিলেট অংশের ৬৮ কিলোমিটার সড়ককে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে অনায়াসে। প্রকল্প গ্রহণের আগে সুনামগঞ্জের কথাটি বিবেচনায় নিলে সিলেট-ঢাকা’র পরিবর্তে সুনামগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করা যেত সহজেই। কিন্তু আমাদের হয়েছে চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে অবস্থা। প্রকল্প প্রণয়নকালে যদি আমাদের এই দাবিটি জোরেশোরে উঠত ত হলে মনে হয় এখন আর হতাশায় পতিত হতে হত না। যাহোক, সময়ে হয়নি বলে একেবারেই হবে না এমনটিও গ্রহণযোগ্য নয়। এখনও ওই প্রকল্পটি সুনামগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার সুযোগ রয়েছে বলে আমরা মনে করি। যেকোনো প্রকল্প প্রয়োজনের খাতিরে সম্প্রসারণ, সংশোধন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন করা যায়। সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের কয়েকজন সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ককে ৬ লেন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। এই উদ্দেশ্যে বৃহষ্পতিবার জেলা সদরে একটি সমাবেশও হয়ে গেছে। ওই সমাবেশে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য জোরালোভাবে এই দাবি উত্থাপন করেছেন। সুনামগঞ্জ জেলার অবস্থান প্রান্তিক পর্যায়ের। প্রান্তবর্তী এই জেলার বহুমুখী উনড়বয়নের প্রয়োজন রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উনড়বয়নের দুয়ার বলা হয়। ভাল যোগাযোগ কাঠামো না থাকলে উন্নয়নের গতি শ্ল কিংবা থেমে যেতে বাধ্য। সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, মেডিক্যাল কলেজ হচ্ছে, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট হচ্ছে। হাওরবেষ্টিত এই জেলায় কৃষিজ শিল্প সম্ভাবনাও রয়েছে। যে ক’টি উন্নয়নের কথা উপরে বলা হলো তার সবগুলোর জন্যই একটি উনড়বত যোগাযোগ অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আমরা ছাতক থেকে জেলা সদর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে আসছি দীর্ঘদিন যাবৎ কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কটিই এই জেলার বহিরাগমনের একমাত্র পথ। সড়কপথে মানুষের জেলার বাইরে যাওয়ার পরিমাণ প্রতিদিন বাড়ছে। এইটুকু সড়কের দুরবস্থার জন্য জেলা সদর থেকে কোনো ভাল মানের বাস-সার্ভিস চালু করছে না কোনো কোম্পানি। সড়কটির উন্নয়ন ঘটলে অনায়াসে জেলা থেকে ভলবো ও এসি বাস-সার্ভিস চালু হতে পারত। এই ধরনের উন্নত বাসের চাহিদা পুরো জেলার মানুষের। তাই ৬ লেন বিশিষ্ট সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রকল্পের সাথে সুনামগঞ্জ অংশকে যুক্ত করা যুক্তিযুক্ত এবং সময়ের প্রেক্ষিতে অগ্রাধিকারযোগ্য। আমরা আশা করব সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন।
যেকোনো প্রকল্প প্রণয়ন, গ্রহণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা একেবারে প্রত্যক্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ছাড়া কোনো উন্নয়ন প্রকল্পই বাস্তবায়িত হতে পারে না। আমাদের সৌভাগ্য ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদে আমাদেরই একজন সংসদ সদস্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। এবং আমরা জানি, তিনি সুনামগঞ্জের উন্নয়নের বিষয়ে অতিশয় আন্তরিক। তাই অপরাপর সংসদ সদস্যরা যদি পরিকল্পনামন্ত্রীর সহায়তা নিয়ে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ককে ৬ লেন উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাহলে আমাদের বিশ্বাস সেটি খুব বেশি কঠিন কাজ হবে না। আমরা চাই জেলার উন্নয়নের প্রশ্নে সকলের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগ।