অধ্যক্ষ মো. ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক
সুনামগঞ্জবাসী তাঁদের এক নির্ভরযোগ্য প্রিয় অভিভাবককে হারাল। যিনি সরাসরি রাজনীতিতে না থেকেও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের একজন অগ্রগামী সৈনিক ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আজীবন অনুসরণ করে চলেছেন তিনি নির্ভীক চিত্তে। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষক সমাজকে জাগাতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। বহু দরিদ্র মক্কেলের জন্য তিনি ছিলেন ভরসার স্থল। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শিক্ষার্থীদের আশা জাগানিয়া এই মানুষটিকে ওরা হয়তো আর খুঁজে পাবে না। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শিক সংগঠনগুলোকে সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারলে তাঁর কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অবশ্যই সম্ভব।
বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু একাধারে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ ও বিশিষ্ট আইনজীবী, জজকোর্টের সাবেক পি.পি, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল শিক্ষা ট্রাস্টের সেক্রেটারি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের জেলা সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আহ্বায়ক, সেবাধর্মী সংগঠন ‘গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ’ এর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনাকারী ‘রক্তাক্ত ’৭১ সুনামগঞ্জ’ গবেষণাধর্মী গ্রন্থের লেখক, ‘একাত্তরের সুনামগঞ্জ’, ‘বরুণ রায় স্মারক গ্রন্থ’, ‘হোসেন বখত স্মারক গ্রন্থ’, ও ‘আলফাত উদ্দিন আহমদ স্মারক গ্রন্থ’ বই চারটির সম্পাদনকারী।
এছাড়াও ‘পশ্চিম জার্মানীর স্মৃতিকথা’ বইয়ের লেখক ও বহু দেশ ভ্রমণকারী, বিশিষ্ট সাংবাদিক, জেলার প্রথম পত্রিকা (অধুনা লুপ্ত) সাপ্তাহিক সুনাম-এর সম্পাদক, রাইফেল ক্লাব ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক, শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সু.জ.ন-এর জেলা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল-খসরু উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ছিলেন।
উল্লেখ্য, আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু গত বুধবার বিকাল ৩ টায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন (ইন্না-লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আলহাজ্ব মুনমুন চৌধুরী, একমাত্র পুত্র (আমেরিকা প্রবাসী) কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ড. ফারহান চৌধুরী দীপ, একমাত্র কন্যা সারাফ ফারহিন চৌধুরী দীয়া (ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে এল. এল. বি অনার্স অধ্যয়নরত) ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পরদিন জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর ও সুনামগঞ্জ পৌরসভা প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁর প্রতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সন্মান জ্ঞাপন করেন।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় এম. পি মুহিবুর রহমান মানিক, সাবেক এম. পি নজির হোসেন, এ. ডি. সি মো. শরিফুল ইসলাম, পৌর মেয়র নাদের বখত, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আইনজীবিগণ, জনপ্রতিনিধিগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবিগণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীগণ সহ সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দ। দুই দফা জানাজা শেষে পিতা মাতার কবরের পাশে ষোলঘর কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দয়া করে, মায়া করে তাঁর সারাজীবনের ভাল কাজগুলোকে কবুল করুন, ত্রুটি- বিচ্যুতি মাফ করে দিন, কবরে- হাশরে শান্তি দিন, জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন, তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন। “প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে” মরহুমের মৃত্যু থেকে এই শিক্ষা নিয়ে আমাদের সকলকে কবর – হাশরের সামানা যোগাড় করার তৌফিক দিন। আমীন। “ওয়া আখেরুূদ্দাওয়ানা আনিলহামদুলিল্লাহে রাব্বিল আলামীন।”


