‘সুনামগঞ্জের লোককবিদের নিয়ে গবেষণা করতে হবে’

স্টাফ রিপোর্টার
জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা লোক সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকালে হাসন রাজা মিলনায়তনে উৎসবের প্রথম পর্বে ছিল আলোচনা সভা। দ্বিতীয় পর্বে বাউল শিল্পীবৃন্দ সংগীত পরিবেশন এবং জেলার বিভিন্ন নৃত্যদল নৃত্য পরিবেশন করেন।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, আমাদের সুনামগঞ্জে অনেক লোককবি আছেন যাদের সম্পর্কে আমরা এখনও কিছু জানি না। এ সম্পর্কিত গবেষণা, প্রকাশনা ও আর্কাইভ নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত। আমাদের এখানে লোক সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান আছে, যা বিলুপ্তির পথে আজ। আমরা যদি এ বিষয়ে সোচ্চার না হই উদ্যোগী না হই তাহলে অচিরেই লোক সংস্কৃতির অনেক উপাদান হারিয়ে যাবে। আমরা অনেকেই জানি না বাংলা লোকসাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম পুরুষ হলেন নির্মলেন্দু চৌধুরী। উনার বাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী গ্রামে। এই গ্রামের অনেক মানুষ জানে না এই গ্রামের এতো বড় একজন লোককবি ও লোকশিল্পী ছিলেন, যিনি এই অঞ্চলের লোকশিল্পকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এসব জানতে হবে, চর্চা করতে হবে। এসময় বক্তারা প্রতি বছর সুনামগঞ্জ উৎসব নাম দিয়ে সুনামগঞ্জের আনাচে কানাচে থেকে লোককবি ও শিল্পীদের সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরার আহবান জানান।
উৎসবে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সুমন মিয়া। এছাড়াও আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, কবি ও লেখক সুখেন্দু সেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেবদাস চৌধুরী রঞ্জন, লোকসংস্কৃতি গবেষক সুভাস উদ্দিন, প্রথমআলোর নিজস্ব প্রতিবেদক অ্যাডভোকেট খলিল রহমান।
আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল আবেদীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী।

সাংস্কৃতিক উৎসবে বাউল তছকির আলী, বাউল যোবায়ের বখত সেবুল, বাউল শাহজাহান, বাউল হীরামোহন, বাউল রণেশ ঠাকুর, বাউল সিরাজ উদ্দীন, বাউল জবান আলী, বাউল ফারুক মিয়া, বাউল সুষেন, বাউল জহির আহমদ সোহেল, বাউল দিলাল উদ্দিন, বাউল বাবুলাল, বাউল ফারজানা আক্তার আশা, বাউল কানু এবং বাউল পংকজ সংগীত পরিবেশন করেন।
এদিকে নৃত্যে ছিলেন শতদল শিল্পীগোষ্ঠী, লোকদল শিল্পীগোষ্ঠী, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ধামাইল দল, নৃত্য্যঙ্গন এবং সুন্দরম।
এছাড়াও যন্ত্রশিল্পী ছিলেন সুবীর বণিক, উত্তম দাশ, মশিদ উদ্দিন, অনিশ তালুকদার, অমিত বর্মণ, জায়েদ মাহমুদ ও আনোয়ার।