স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার নিখোঁজ অথবা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই টানা ১০ দিন ধরে অনুপস্থিত ও সন্দেহভাজন আচরণকারী শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরী করছে জেলা মাধ্যমিক অফিস।
জেলা মাধ্যমিক অফিস সুত্রে জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক চিঠির প্রেক্ষিতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় এ তালিকা প্রস্তুত করতে গত ১২ জুলাই উপজেলা মাধ্যমিক অফিসারদের কাছে একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকতাগণ জেলার ১১ টি উপজেলার সকল মাধ্যমিক স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধানগণের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। জেলার ১১ টি উপজেলায় ২৩ টি নি¤œ মাধ্যমিক স্কুল ও ১৮২ টি মাধ্যমিক স্কুল, ২০ টি স্কুল এন্ড কলেজ, ১৪ উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ১৮টি ডিগ্রী কলেজ এবং ৬৭টি দাখিল মাদ্রাসা,২০টি আলিম মাদ্রাসা,৩টি ফাজিল মাদ্রাসা, ১ টি কামিল মাদ্রাসা রয়েছে। নি¤œ-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ১ লাখ ২১ হাজার ১৮১ জন,মাদ্রাসায় ২৪ হাজার ৯৫৮ জন ও কলেজে ৩০হাজার ১১৮ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন।
ধর্মপাশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তাহের কামরুল হাসান জানান,
তারা বিষয়টি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিত ভাবে অবহিত করেছেন। স্বস্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অসংলগ্ন কোন কিছু পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংগে সংগে অবহিত করবেন।
সুনামগঞ্জ গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও সাংবাদিক এমরানুল হক চৌধুরী জানান, স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্রেইন ওয়াশ করে জঙ্গিবাদি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা সহজ। কারণ তখন তারা একটি ঘুরপাকের মধ্যে পড়ে যায়। একদিকে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের সুস্থ চিন্তা চেতনাকে গ্রাস করে ফেলে। তাই তারা বিপথগামী হয়।
ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা মমিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নীরেন্দ্র কুমার ভদ্র বলেন,‘স্কুলে তারা শিক্ষার্থীদের আচার ব্যবহার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কোন অসংগতি পেলে সংগে সংগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন,‘কোন যুক্তিতিক কারণ ছাড়া যদি কোন শিক্ষার্থী ১০ দিনের বেশি ক্লাশে অনুপস্থিত থাকে তাহলে তার অভিভাবককে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি অনুপস্থিতির সন্তোষজনক কারণ ব্যাখ্যা দিলে তাকে স্কুলে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয়া হবে।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। ইতোমধ্যে সকল ১১ টি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা উপজেলা পর্যায়ের মাধ্যমিক, নি¤œ মাধ্যমিক, স্কুল এন্ড কলেজের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিষয়টি লিখিত ভাবে অবহিত করেছেন। তাছাড়া যদি কোন শিক্ষার্থী উপযুক্ত কারণ ব্যাতীত ১০ দিন অনুপস্থিত থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেসব শিক্ষার্থীর আচার-আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজন বলে মনে হবে তাদেরকে আইনের হাতে সর্পোদ করা হবে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে জানান, ধর্মীয় জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে পরিবারকে প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ একজন শিক্ষার্থী স্কুলে যে সময় কাটায় তার চেয়ে বেশি কাটায় তার পরিবারে তাই এ ব্যাপারে পরিবারের গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়াও স্থানীয়দের খোঁজ খবর নেয়া প্রয়োজন।


