সুনামগঞ্জে বোরো ধানের চারা ভালো হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি
আবহাওয়া ভালো থাকায় সুনামগঞ্জে বোরো ধানের চারা এবার ভালো হয়েছে। দুইদিন হয় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো চারা রোপণের কাজও শুরু হয়েছে। কৃষকরা এবার কৃষিবিদ, হীরা, নাফকো, ঝলক, বিআর-২৮ এবং বিআর-২৯ জাতের ধানের আবাদ করেছেন বেশি। কোন কোন কৃষক নিজের পরিবারের খাবার ও আত্মীয় স্বজনকে খাওয়ানোর সুস্বাদু চাল পেতে পুরোনো দিনের ধান গোবি সাইল, টুপা, লালডিঙ্গি, রাতা ধানের চাষও সামান্য পরিমাণে করছেন।
শাল্লার কান্দকলা গ্রামের কৃষক মনোরঞ্জন দাস বললেন, হালিচারার বীজতলায় গেলে মন জুড়িয়ে যায়, এবার সবল চারা হয়েছে, অন্যান্য বছর চারা লম্বা কম হতো, সার দেওয়া লাগতো, পোকায় ধরতো; এবার এই ধরণের যন্ত্রণা নাই, সময়মত বৃষ্টি হওয়ায় সেচের সংকট হয় নি, অগ্রহায়ণের প্রথম দিকে বীজতলায় বীজ বপণ করা হয়েছিল। এখন চারা রোপণের উপযোগী হওয়ায় দুইদিন হয় রোপণ শুরু হয়েছে। তিনি জানালেন, বৃষ্টি হওয়ায় মাটি নরম রয়েছে, এজন্য চারা ওঠাতে কিছু সমস্যা হচ্ছে।
শাল্লার আনন্দপুরের কৃষক মাখন লাল দাস বললেন, শনিবার থেকে চারা ওঠানো শুরু করেছি। এবার বেশি ফলনের ধানের সঙ্গে তিন কেয়ার (এক একর) রাতা ধানও করছি। এই ধান একরে ৩০-৩২ মণের বেশি হয় না। এ ধানের চালে ভাত স্বাদ হয়। বাড়িতে অতিথি আসলে বা আচার অনুষ্ঠান হলে এই চাল কাজে লাগে। তিনি জানান, পৌষ মাস ভরা ধান রোপণের কাজ চলবে।
জেলার বিশ^ম্ভরপুরের রাধানগরের কৃষক আব্দুল হেকিম বললেন, সময়মত বীজ পাওয়ায় এবং আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ধানের চারা ভালো হয়েছে। দুই দিন হয় চারা রোপণ শুরু হয়েছে, চলবে মাঘ মাস পর্যন্ত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান বললেন, গেল বছরের চাইতে এবার ধানের চারা ভালো হয়েছে। রোপণের কাজও আগে ভাগে শুরু হয়েছে। এবার জেলায় দুই লাখ ২২ হাজার ৬৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো’র চাষাবাদ হবে।