সুনামগঞ্জে শীতে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী

আসাদ মনি
সুনামগঞ্জে হাড় কাঁপানো শীতে ঠা-াজনিত রোগে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। বেশিরভাগই আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়ায়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের দায়িত্বশীলরা জানান, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গেল এক সপ্তাহে শিশু বিভাগে ৭৯ জন, নবজাতক বিভাগে ৪২ জন ও ডায়রিয়া বিভাগে ১২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
পুরো ডিসেম্বর মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া শিশু রোগী ছিলো ৮১৫ এবং প্রাপ্ত বয়স্ক রোগী ছিল ১৪৯ জন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সেবিকা সংকট থাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা নানা সমস্যায় পড়ছেন।
নারায়ণ তলার বাসিন্দা কলসুমা বেগম বুধবার রাত ১০ টায় হাসপাতালে এসেছেন দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে। তিনি শিশু ওয়ার্ডে সন্তানকে নিয়ে ভর্তি রয়েছেন। দুদিন আগে সন্তানের হঠাৎ করেই পাতলা পায়খানা শুরু হয়। স্যালাইন খাওয়ানোর পরও কোনো কাজে আসে নি। নিরুপায় হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। কিন্তু ওয়ার্ডে থাকা নার্সের কাছ থেকে ওষুধ পেতে লাইনে দাঁড়াতে হয়। রোগীর সংখ্যার তুলনায় নার্স কমথাকায় এই সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি করেন কলসুমা বেগম।
একই ওয়ার্ডে সন্তানকে নিয়ে ভর্তি থাকা আরেক অভিভাবক জানালেন, গত কয়েক দিনের শীতে শিশু কন্যার বমি ও পাতলা পায়খানা দেখা দেয়। সোমবার রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় স্যালাইন দেয়ার কথা। কিন্তু ৫ টায়ও স্যালাইন দেওয়া হয়নি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের স্টাফ নার্স সন্ধ্যা রায় বলেন, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও অস্বাভাবিক নয়। শীতে ডায়রিয়া রোগীর পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়েই। ডিসেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নার্সের সংখ্যা কম। রোগীর সংখ্যা বেশি। এতো রোগীকে সঠিক সেবা দেওয়া এই পরিমাণ নার্সের পক্ষে অসম্ভব। এজন্যই সিরিয়াল ও জরুরী অনুযায়ী সেবা দিচ্ছি আমরা।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে অন্যান্য রোগীর তুলনায় শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশি। শীতে ডায়রিয়া রোগীর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালের দুটি ইউনিটে নার্সসহ অন্য সকলেই কাজ করছেন। একটি কোভিড এবং অন্যটি ননকোভিড ইউনিট। ২২৩ জন নার্সের পদ থাকলেও আছেন ১১৫ জন। অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য। এরপর সকল রোগীদেরই ডায়রিয়ার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।