সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সোনালী ব্যাংকে জনবল সংকট চরমে

বিন্দু তালুকদার
সরকারি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতনভাতাসহ সরকারের সকল আর্থিক কর্মকান্ড সম্পাদনা করে রাষ্ট্রিয় মালিকানাধিন ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে গ্রাহকদের কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছে না ব্যাংকের সুনামগঞ্জ অঞ্চলের ১২ টি শাখা।
কর্মকর্তা সংকটের কারণে জেলার একাধিক ব্যাংকে জোড়া-তালি দিয়ে চলছে গ্রাহক সেবার কাজ। কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে সাধারণ গ্রাহকদের অনেকেই ব্যাংকের উপর ক্ষুব্ধ। কিন্তু ব্যাংকের জনবল সংকটের বিষয়টি জানেন না অনেক গ্রাহক।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলায় সোনালী ব্যাংক লি. এর ১২টি শাখা রয়েছে। যার গ্রাহকসংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। ব্যাংকের প্রধান শাখাসহ ১২টি শাখায় ১৯৫জন কর্মকর্তার পদ রয়েছে। কিন্তু কর্মরত আছেন ১০২ জন। দীর্ঘদিন ধরে ৯৩ জন কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ না হলেও প্রতিমাসেই এক-দুইজন করে অবসরে যাচ্ছেন।
উপজেলা পর্যায়ে ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় ১৩ থেকে ১৪ জন কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও ৬-৭ জন কর্মকর্তা দিয়ে চলছে জেলার অন্তত ৪টি শাখা। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা শাখায় কর্মরত আছেন ৬ জন, জগন্নাথপুরে ৭জন, দোয়ারাবাজারে ৬ জন, শাল্লায় ৭জন। ওই চারটি শাখা কম জনবল দিয়েই গ্রাহকদের সেবা দিতে হচ্ছে। এছাড়া জেলা সদরে পুরাতন বাসস্টেশন এলাকার প্রধান শাখায় ৩০ জনের উপরে কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ২৪ জন। যার কারণে গ্রাহকরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে এক শাখা ব্যবস্থাপক জানান, রাষ্ট্রিয় মালিকানাধিন সোনালী ব্যাংকের সিলেট অঞ্চলেই জনবল সংকট খুব প্রকট। অর্থমন্ত্রী সিলেট অঞ্চলের হলেও তিনি এই বিষয়ে কোন নজর দেন না। তিনি ব্যাংকের প্রতি সুনজর দিলে গ্রাহক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই দুর্ভোগ হ্রাস পেত।
sonali-bankসোনালী ব্যাংক লি. এর দোয়ারাবাজার উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাক খান বলেন,‘ আমাদের শাখায় প্রায় ২১ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এছাড়া আমরা সকল সরকারি লেনদেন সম্পন্ন করি। জেলার সবচেয়ে বেশী মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এই উপজেলায়। মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক বিষয়সহ প্রতি দিনই আমরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে আমরা কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছে না, সম্ভবও হচ্ছে না।’
সোনালী ব্যাংক সুনামগঞ্জ শাখার গ্রাহক রফিক মিয়া বলেন, ‘সোনালী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি ব্যাংক। এই ব্যাংকের অফিসার-কর্মচারী কম। এই ব্যাংকের একজন অফিসারকে কয়েক জনের কাজ করতে হয়। এই অবস্থার উন্নতি না হলে মানুষ ভাল সেবা পাবে না। সরকারের উচিত সোনালী ব্যাংকসহ সকল সরকারি ব্যাংকের অফিসার ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়া।’
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা লেখক সুখেন্দু সেন বলেন,‘দেশের সকল সরকারি ব্যাংকেই জনবল সংকট রয়েছে। কৃষি ব্যাংকে ১৯৮৪ সাল থেকে প্রথমে ১০ বছর ও ১৯৯১ সাল আরো ১০ বছর নিয়োগ বন্ধ ছিল। তারপরও গ্রাহককে আমাদের সেবা দিতে হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে কম্পিউটারাইজ করা হলেও দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হয়নি। জনবল সংকটের কারণে গ্রাহকরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ’
সোনালী ব্যাংক লি. সুনামগঞ্জ অঞ্চলের এজিএম দুলন কান্তি চক্রবর্তী বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সকল শাখায় জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। তারপরও আমরা যথাসাধ্য সেবা প্রদানের চেষ্টা করছি। কর্মকর্তা সংকটের কারণে হয়তো মাঝে মাঝে গ্রাহকদের কাঙ্খিত সেবা দেয়া সম্ভব হয় না। এত কম জনবল দিয়ে অন্য কোন ব্যাংক আমাদের মত সেবা দিতে পারবে না। কারণ আমরাই সরকারি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা, পেনশন, মুক্তিযোদ্ধা, বিধবা, প্রতিবন্ধি, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সকল ভাতা প্রদান করি। মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকারের ঋণ প্রদান ও আদায় করতে হয়। গ্রাহকদের সেবার পাশাপাশি পাশাপাশি রাষ্ট্রিয় সব লেনদেন আমরাই পরিচালনা করছি।  ’