স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহরের অধিকাংশ সড়ক ও এলাকা ভেসে উঠেছে। বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইছে নদ নদীর পানি। বন্যার পানি নামার পর ভেসে উঠছে ক্ষত চিহ্ন। কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জের। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুনামগঞ্জের সড়কগুলো। কয়েকটি উপজেলার সাথে এখনো বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগ। এসব সড়কে চলতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনাও। ইট, বস্তা ও বালি ফেলে প্রাথমিকভাবে সড়ক যোগাযোগ পুনস্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে ক্ষতির পরিমান আরও বাড়বে বলেও জানানো হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের সদর উপজেলার রাধানগর থেকে বিশ্বম্ভপুর উপজেলার চালবন পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক দেখলে যে কেউ আঁতকে উঠবে। বন্যার ভয়াবহতা সহজেই বোঝা যাচ্ছে এই সড়কের ক্ষত চিহ্নগুলো দেখার পর। পানির চাপ এতোটাই শক্তিশালী ছিলো যে, ঘুর্ণিঝড়ে গাছ, ঘর-বাড়ি যেমন দুমরে মোচড়ে যায়, ঠিক তেমনি দুমড়ে মুচড়ে গেছে সড়ক। এই সড়কের রসুলপুর মাদ্রাসার কাছে সড়কের আরসিসি ঢালাই রড সহ দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে পড়েছে পাশের হাওরে। সড়কে তৈরি হয়েছে ছোট ছোট পুকুরের মতো গর্ত। কোথাও কোথাও সড়কের কার্পেটিং ও বেইজিং সরে গিয়ে ¯্রােতে দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত মাটি সরে গেছে। আবার কোনো জায়গায় সড়কের মাঝে তৈরি হয়েছে ছোটখাটো খাল।
অধিকাংশ সড়কের পাশ থেকে সরে গেছে মাটি। যার কারণে পুরোপুরি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে সুনামগঞ্জের সাথে বিশ্বম্ভপুর ও তাহিরপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। হাওরে পানি থাকায় বিকল্প হিসেবে নৌপথ এখন শেষ ভরসা দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের।
শুধু স্থানীয় মানুষ নয়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার পর্যটক চলাচল করেন। টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি), শিমুল বাগান সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সমৃদ্ধ পর্যটন উপজেলা খ্যাত তাহিরপুরে যাওয়ার একমাত্র সড়ক পথ এই সুনামগঞ্জ-বিশম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়ক। বন্যার কারণে পর্যটক আসা বন্ধ থাকলেও পানি নেমে যাওয়ার পর সড়ক চলাচল অনুপযোগী হওয়ায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। গাড়ি দিয়ে, নৌকায়, হেঁটে ভেঙ্গে ভেঙে সদর উপজেলায় আসতে হচ্ছে। এতে দ্বিগুণ টাকা ভাড়া খরচ হচ্ছে বলেও জানান তারা। পাশাপাশি ত্রাণ দিতে গিয়ে বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠনও পড়েছেন দুর্ভোগে।
সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের বাসিন্দা, সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আখলাকুর রহমান বলেন, আমার ভাই এই সড়কের গর্তে পড়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। একটা মোটরসাইকেল গিয়েছিল সেটাও পড়ে গেছে। আমরা ধরে তুলে দিয়েছি। রাস্তা ঠিক করার কোনো উদ্যোগ না দেখে আমরা কয়েকজন মিলে বালি ফেলে আপাতত শুধু হেঁটে ও মোটরসাইকেল চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন মানুষ একটু যাইতে পারে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের মুফতি ওবায়দুল হক বললেন, একশ বছরের ভেতর এমন ভয়াবহ বন্যা সুনামগঞ্জে হয়নি। বন্যায় রাস্তাঘাটে চলাচলে বিঘœ ঘটছে। রাস্তাঘাট ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। পায়ে হেঁটে, নৌকায় করে ভেঙে ভেঙে আসতে হচ্ছে। এক টাকার জায়গায় পাঁচ, দশ, পনের টাকা দিতে হচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লিটন হায়দার বলেন, এটা শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যা। আমাদের সিনিয়র মুরব্বিরাও এমন বন্যা দেখেননি। এই বন্যায় জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌছেছে। বিশেষ করে রাস্তাঘাট একেবারেই চলাচল অনুপযোগী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে এই দুর্ভোগ দেখে গেছেন, তিনি নিশ্চয়ই আমাদের পুনর্বাসন করবেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক জানান, সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় সওজের আওতাধীন ৮ টি সড়কের ৩৫৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৮৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্র্রস্ত হয়েছে। এখনো কিছু জায়গায় পানি আছে, সেখান থেকে পানি নামলে ক্ষতির পরিমান আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে যেসব ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা ভেসে উঠছে সেগুলোতে ইটের সলিং, বালু ফেলে প্রাথমিকভাবে সড়ক যোগাযোগ সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।


