সুনামগঞ্জ—নিয়ামতপুর—সাচনা সড়কটি এতদঞ্চলের একটি অন্যতম প্রধান সড়ক। বিশেষ করে সদর উপজেলার গৌরারং, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ও জামালগঞ্জের সাচনাবাজারের জন্য এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় বর্তমানে সড়কের স্থানে স্থানে ভাঙন ও গর্ত দেখা দিয়েছে। খানাখন্দপূর্ণ এই সড়কে যানবাহন চলতে সমস্যা তৈরি হয়। বৃষ্টি হলে রাস্তার গর্তে পানি জমে থাকে, রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে যায়। এমন অবস্থায় পথচারীদের হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়ে। যাতায়াত দুর্ভোগের শিকার লোকজন এই সড়কটি দ্রুত মেরামতের আবেদন জানিয়েছেন। গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. শওকত আরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহন সার্বক্ষণিক ঝাঁকুনির মধ্যে থাকে। যানবাহনের তীব্র ও অসহনশীল ঝাঁকুনির কারণে সড়কে চলাচলকারী গর্ভবর্তী মা, রোগী, বয়স্ক ও শিশুরা প্রচণ্ড ঝঁুকির মধ্যে থাকেন। রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এতে পথচারী ও যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে মানুষ বাধ্য হয়েই এই ঝঁুকি মাথায় নিয়ে চলাচল করে থাকেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন বেহাল অবস্থা কাম্য নয়।
অবশ্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন ওই সড়ক মেরামত কাজের কার্যাদেশ পাওয়া গেছে। দ্রুত মেরামত কাজ শুরু হবে। প্রকৌশলীর এই কথায় সকলেই কিছুটা স্বস্তি অনুভব করবেন। বর্তমান বাস্তবতায় ভাল সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ছাড়া মানুষ এক মুহূর্তও চলতে পারে না। কর্মব্যস্ত মানুষ এখন সময়কে ভীষণ মূল্য দিয়ে থাকেন। সকলেই চান দ্রুত নির্ঝঞ্ঝাটভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে। একসময় ছিল পায়ে হেঁটে কিংবা নৌকায় চড়ে ভাটি এলাকার মানুষ চলাচল করতেন। এখন অবস্থা পাল্টেছে। পাল্টেছে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা। পাল্টেছে দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনা। আগের মত মানুষ আর আঠারো মাসে বছর গণ্য করেন না। ব্যবসায়ীরা চান দ্রুত তার পণ্য সরবরাহ হোক। বিভিন্ন কাজে চলাচলকারী মানুষ চান কাজ সেরে তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছাতে। সরকার তাই সারা দেশেই ভাল সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাকে অতিশয় গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। পুরনো সড়ককে প্রশস্ত করা হচ্ছে। যেসব সড়কের অবস্থা খারাপ হয়েছে সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ—নিয়ামতপুর—সাচনা সড়কটিও এখন মেরামতের আওতায় আসল। আমরা চাই দ্রুত মেরামত কাজ শুরু হোক এবং কাজের যথাযথ মান বজায় রাখা হোক।
বাংলাদেশে নতুন সড়ক নির্মাণ বা পুরনো সড়ক সংস্কার করতে সরকার থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রাক্কলন পর্যায়েই উপযুক্ত মানে কাজ শেষ করতে যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ রাখার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলÑ কাজের বরাদ্দ পর্যাপ্ত হলেও প্রায়শই কাজের মান বজায় না থাকার অভিযোগ উঠে। নির্মাণের অল্পদিন পরই সড়ক ধসে পড়া, সেতুর গার্ডার ভেঙে যাওয়া, কালভার্ট দেবে যাওয়া, ভবন হেলে পড়া; ইত্যকার নানা ঘটনা দেখে দেখে মানুষের মনে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ঠিকাদারি প্রথায় সরকারি টাকা দিয়ে আসলে মূল কাজের চাইতে ঠিকাদার—তদারককারীদের পকেট ভর্তি হয় বেশি। কারণ বরাদ্দ ও প্রাক্কলন অনুসারে মান বজায় না রাখার জন্য ঠিকাদারের সাথে তদারককারী প্রকৌশলীদের দায় বেশি। আমরা বিশ্বাস করি কাজের সুষ্ঠু তদারকি করা হলে এবং ঠিকাদারদের প্রশ্রয় দেয়া না হলে কাজের মান খারাপ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। বর্নিত সড়কের ক্ষেত্রে আমরা উপযুক্ত মান বজায় রাখার আহ্বান জানাই।
- কম খরচে অধিক ধানের উৎপাদন সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেয়ার সুপারিশ
- মানুষের প্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মউজদীন

