বিশেষ প্রতিনিধি
বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আফছর উদ্দিনকে শনিবার স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। পাউবো’র দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী’র এই স্ট্যান্ড রিলিজকে ‘আইওয়াশ’ বলেছেন সুনামগঞ্জের বিশিষ্টজনেরা।
কৃষক সগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি অ্যাড. নিরঞ্জন তালুকদার বলেন,‘দুই হাজার কোটি টাকার ফসল যার দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে ডুবে গেছে তাকে বরখাস্ত করে অবিলম্বে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা না হলে অপরাধীকে সুযোগ করে দেওয়ার সামিল হলো।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আইনুল ইসলাম বাবলু বলেন,‘পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ না করে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতো।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি হাওর বাঁচাও-সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন,‘প্রত্যাহার মুখ্য বিষয় নয়। দাবি ছিল তাকে বরখাস্ত করা। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে অপরাধকেই সহযোগিতা করা হলো।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী বলেন,‘সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী’র বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এটি কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে
প্রমাণিত হয়েছে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া জরুরি ছিল।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান বলেন,‘জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির বিশেষ সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের জন্য পাউবো, ঠিকাদার ও পিআইসি দায়ী। পাউবো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আনার পর আমি প্রশ্ন করলে, তারা সেটি স্বীকার করেছে। এই অবস্থায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে প্রত্যাহার বা বদলী করে দুর্নীতিবাজকে সুবিধা করে দেওয়া হলো। এই ব্যবস্থায় লাখো কৃষক শান্তনার কিছু পায়নি।’
সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন,‘পাউবো কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার অপরাধ আড়াল করার একটি কৌশল। আমরা দুর্নীতির মূল উৎপাটন চাই। এসব দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত পাউবো কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও পিআইসি যেই হোক কেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’


