সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আয়োজনে র‌্যালি ও আলোচনা সভা হয়েছে। সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১ টায় হয় র‌্যালি ও আলোচনা সভা।
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মো. মাকসুদ চৌধুরী।
সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হায়দার চৌধুরী লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড সিরাজুর রহমান সিরাজ, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম।
এসময় বক্তারা বলেন, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জকে শত্রু মুক্ত করা হয়। যারা দেশকে স্বাধীন করেছিলেন তাঁদের স্মৃতি আজীবন মনে রাখবে মানুষ। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সেই অবদান কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার উদারভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০০ টাকা ভাতা থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ২০ হাজার করেছেন।
সহকারী কমিশনার ইফতিসাম প্রীতি’র সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের এই দিনে (৬ ডিসেম্বর) সুনামগঞ্জ শহর হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়। তৎকালীন সুনামগঞ্জ মহকুমা শহর ছেড়ে পিছু হটে পাকবাহিনী। হানাদার মুক্ত হয়ে সুনামগঞ্জ শহর ‘জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে মুখরিত হয়। সুনামগঞ্জ শহরের প্রতিটি এলাকার ঘরে ঘরে ওড়ে স্বাধীনতার লাল সবুজের পতাকা। সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবসের দিনেই সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা তালেব উদ্দিনসহ ৩ মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালায় পাক হায়েনারা। এই ঘটনাটি ছিল সুনামগঞ্জের মুক্তিকামী মানুষের জন্য বেদনাদায়ক।