সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ- ২৫০০ শিক্ষার্থীর জন্যে ৯ জন শিক্ষক

শহীদ নূর আহমেদ
সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ নারী শিক্ষার্থীদের জন্যে জেলার একমাত্র উচ্চ বিদ্যাপীঠ। ২০১১ সালে এই কলেজ ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। ডিগ্রিতে উন্নীত হওয়ার মেয়াদ ইতোমধ্যে ৬ বছর হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোন পদ সৃষ্টি হয়নি প্রতিষ্ঠাটিতে। অবকাঠামো, শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষকসহ লোকবল সঙ্কট চরম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুমোদিত একাধিক পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক না থাকায় হচ্ছে না রসায়ন ও প্রদার্থ বিজ্ঞানের পাঠদান। খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। মানসম্মত শিক্ষা না পাওয়ায় নিয়মিত ক্লাস করতে আগ্রহী হচ্ছে না ছাত্রীরা। প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক সমস্যা ও শিক্ষক সঙ্কট নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও সমস্যা সমাধানে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে জানান  কলেজ কর্তৃপক্ষ। ডিগ্রি প্যাটার্নে শিক্ষকের পদ সৃষ্টি, অনুমোদিত পদে শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামো  সঙ্কট নিরসনের দাবি তাঁদের।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজটি। ১৯৯৮ সালে সরকারিকরণ হয় । হাওর এলাকার নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার গুরুত্বের উপর বিবেচনা করে  কলেজটিকে ২০১১ সালে ডিগ্রিতে উন্নীত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১,২০০ জন ছাত্রী ও ডিগ্রি প্যার্টানে ১,০০০ জন ছাত্রী অধ্যায়নরত  থাকলেও পাঠদানে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। মোট প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর জন্যে ডিপার্টমেন্ট অনুযায়ি দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৯ জন লেকচারার। কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ১৫ জন শিক্ষক থাকলেও সরকারি বদলি, প্রমোশন ,অবসর গ্রহণ সহ নানা কারণে তৈরী হয়েছে শিক্ষকের পদ শূন্যতা। পদার্থ, রসায়ন, বোটানি, পরিসংখ্যান, মনোবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিভাগে অনুমোদিত পদ থাকলেও সব গুলো পদ শূন্য রয়েছে।
কলেজটিতে নেই কোন কম্পিউটার অপারেটর। মাষ্টার রোলে খন্ডকালীন অপারেটর দিয়ে চালানো হচ্ছে চিঠিপত্র      আদান প্রদান, ডাটা এন্ট্রি, অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমসহ সকল কাজ। শূন্য রয়েছে  লাইব্রেরিয়ান, হিসাবরক্ষক, শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ। পর্যাপ্ত নেই এমএলএসএস’র পদ। এদিকে উচ্চ মাধ্যমিক, ড্রিগ্রি, অনার্স, মাষ্টার্স পরীক্ষার অন্যতম  কেন্দ্র হিসাবে এই কলেজের শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহার করায় সারা বছরই শিক্ষকগণকে পরীক্ষা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়।
অপরদিকে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত দিক দিয়ে রয়েছে নানা সঙ্কট। নেই একাডেমিক ভবন। ক্লাসরুম  সঙ্কট চরম হওয়ায় গাদাগাদি করে বসতে হয় ছাত্রীদের। রয়েছে ব্যাঞ্চ, টেবিল, আলমিরাসহ নানা শিক্ষা উপকরনের স্বল্পতা।
মনসা চক্রবর্তী ও শমিষ্টা রায় নামে একাদশ শ্রেণীর দুই শিক্ষার্থী বলেন, মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণে মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছি। কলেজে অতিরিক্ত ছাত্রী থাকলেও শিক্ষক কম। শিক্ষক না থাকায় রসায়ন ,পদার্থ সহ অনেক বিষয়ে ক্লাস হয় না। হলেও অতিরিক্ত একজন শিক্ষক একাধিক ক্লাস নেন। অতিথি শিক্ষক নিয়ে সাময়িকভাবে নেয়া হচ্ছে ক্লাস। এমন অবস্থায় কলেজে আসতে সায় দেয় না মন।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পরাগ কান্তি দে বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্যে জেলার  একমাত্র স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি মহিলা কলেজ। প্রতি বছর বাড়ছে শিক্ষাথীর সংখ্যা । সরকারিকরণের ১৮ বছর ও ডিগিত্রে উন্নীতকরণের ৭ বছরে পা দিলেও সৃষ্টি হয়নি কোন নতুন পদ। ২৫০০ জন শিক্ষার্থীও জন্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন শিক্ষক। যা খুবই হতাশাজনক। অবকাঠামো সঙ্কটসহ লোকবল সঙ্কট চরম। কলেজের শিক্ষক সঙ্কটসহ নানা সমস্যা নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বার বার অবহিত করছি কিন্তু তাঁরা বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এই সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে করেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কাজ স্থবির হয়ে পড়বে।