আগামী বুধবার ২১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী দেশের এক শ’টি সড়ক উদ্বোধন করবেন। এই ১ শ’ সড়কের মধ্যে আছে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কও। সড়কটি গত বেশ কয়েক বছর যাবৎ উন্নীত হচ্ছিল। সুনামগঞ্জ জেলা সীমানায় অবস্থিত সড়কের বিভিন্ন অংশের ১৮ ফুট প্রশস্ততাকে ২৪ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টকে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে যানবাহনের চাপ মোকাবিলার মতো শক্ত করা হয়েছে। জেলাবাসী হিসাবে এই সড়কের উন্নয়নে সকলেই আনন্দিত। এই আনন্দ আরও বহু গুণ বেড়ে যায় যখন এর উদ্বোধন হয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে। বলাবাহুল্য জেলাবাসীর বহির্গমনের একমাত্র সড়ক এটি। জেলায় কোনো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এই সড়ক দিয়েই রাজধানী, বিভাগীয় শহরসহ সারা দেশের সাথে সংযোগ স্থাপিত হয়। সুতরাং এই সড়কটির উন্নতি জেলার সকল মানুষের একান্ত কাম্য। আশা ছিলো সিলেট-ঢাকা হাইওয়ের অংশ হিসাবে এই সড়কটিকে অন্তর্ভুক্ত করে তদনুরুপ উন্নয়ন সাধিত হবে। তা আপাতত হয়নি। তাই বলে মানুষের মনের স্বপ্ন তিরোহিত হয়ে যায়নি। এবার হয়নি আগামীতে হবে, এমনটাই বিশ্বাস করেন জেলাবাসী। তাই সড়কটির ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি সত্যিকার অর্থেই আনন্দের। একে আমরা অগ্রগতির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া হিসাবে মনে করছি।
গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সড়ক উদ্বোধন নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে গত ভয়াল বন্যায় সড়কের শান্তিপুর উপজেলাধীন ধসে পড়া সদরপুর সেতু ও আহসানমারা সেতুর উভয়পাশের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যথাযথভাবে মেরামত না করার বিষয়টি উল্লেখ করে আকাক্সক্ষা প্রকাশ করা হয়েছে উদ্বোধনের আগেই এই কাজগুলো হয়ে গেলে ভালো হত। অবশ্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে সড়কের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামত কাজের দরপত্র হয়ে গেছে বলে। জানুয়ারি মাস থেকেই কাজ শুরু হবে। অবশ্য ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সাময়িকভাবে জরুরি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী রাখা হয়েছে। সড়কের বিষয়টি এমন যে এর একটি অংশকে অনুন্নত রেখে অন্য অংশের উন্নয়ন করলে পুরো সড়কটি কার্যকর হয়ে উঠে না। যেমন রানীগঞ্জে কুশিয়ারা সেতু হয়েছে। রাস্তারও বেশির ভাগের উন্নয়ন হয়ে গেছে। কিন্তু ওই সড়কের দুইটি বিধ্বস্ত বেইলি সেতু ও কিছু পরিমাণ সরু সড়কের কারণে এই উন্নয়নের সুফল ভোগ করা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত বড় গাড়িগুলো কুশিয়ারা সেতু হয়ে যাতায়াত শুরু করেনি। কোনো সড়কের উন্নয়ন সাধন করতে হলে সামগ্রিকভাবেই তা করতে হয়। খ-িত উন্নয়ন দিয়ে পরিপূর্ণ সুবিধা কখনও ভোগ করা যায় না। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক নিয়েও জেলাবাসী একই ধরনের প্রত্যাশা পোষণ করেন। আমরা জানি সরকারি কাজে বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও ধাপ অতিক্রম করতে বেশ সময়ের প্রয়োজন হয়। এই বিবেচনাবোধ থেকেই আমরা সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের দ্রুত মেরামত আশা করি। আমরা চাই না সামনের মৌসুমে আবারও বন্যা এসে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিক। হাওর এলাকার সড়ক যে অংশ হাওর অতিক্রম করেছে সেই অংশগুলোকে অকাল বন্যা, পানির তোড় ও ঢেউ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপযুক্ত করে তৈরি করতে হবে। নতুবা ভাঙা-গড়ার খেলা বন্ধ করা যাবে না।
বর্র্তমান সরকারের শাসনামলে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও দূরদৃষ্টির কারণে দেশে বহু উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের উপযুক্ত পরিকল্পনা কেন্দ্রে সঠিকভাবে পৌঁছাতে হয়। এই কাজটি যে যত দক্ষতার সাথে করতে পারে তার এলাকার উন্নয়ন হয় তত বেশি। আমাদের স্বপ্নের সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কটিকে কালক্রমে হাইওয়ের অংশ হিসাবে সকলে দেখতে চায়। উন্নয়নবান্ধব বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অদূর ভবিষ্যতে সেটিও পূর্ণতা পাবে নিশ্চয়ই।


